
টার্কি
মুরগি নামে বড় আকারের মুরগি পালন আমাদের দেশে শুরু হয়েছে বেশি দিন হয়নি।
ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে এরই মধ্যে বেশ লাভজনক হয়ে ওঠার পর চট্টগ্রামে এই মুরগির
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার গড়ে তোলায় অনেকেরই আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মিরসরাই
উপজেলায়ও এই লাভজনক মুরগি পালন দিন দিন বাড়ছে। মিরসরাইয়ের ফেনাফুনি এলাকার
মো: ছায়েফ উল্যাহর ছোট্ট পরিসরের টার্কি খামারে গিয়ে দেখা যায় ছোট্ট হলেও
সফলতার পথে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, বেশ কিছু দিন আগে
বন্ধু কাজী শাফিকুল ইসলাম সুমন তাকে পরামর্শ দেন। সে পরামর্শে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জায়গার টার্কির ফার্ম দেখেন। সিদ্ধান্ত নেন টার্কি
মুরগির চাষ শুরু করবেন। জয়পুর হাট থেকে ৯টি টার্কি মুরগি সংগ্রহ করে
লালন-পালন শুরু করেন। বর্তমানে তার ১২০০ বর্গফুটের খামারে এক মাস থেকে আট
মাস বয়সী শতাধিক টার্কি পালন করা হচ্ছে। তিনি জানান ঘরে ঘরে টার্কি পালনে
উদ্বুদ্ধ করে মিরসরাইয়ের সর্বত্র তিনি এই মুরগি পালন ছড়িয়ে দিতে চান। তিনি
বলেন, স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ করতে চাইলে টার্কি চাষের বিকল্প নেই। মুরগির
খামার করতে যে পরিশ্রম হয় তার চেয়ে কম পরিশ্রমে টার্কি পালন করে অধিক
লাভবান হাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে বিপণনে তেমন কোনো সমস্যা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে (তামরিজ এগ্রো টার্কি ফার্ম-মিরসরাই) ও
স্থানীয় বাজারগুলোতে ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রচারণা চালান। ক্রেতাদের কাছ থেকে
অর্ডার নিয়ে সপ্তাহে এক দিন খামারের সামনে খুচরা গোশত বিক্রি করেন। প্রতি
কেজি ৬০০ টাকা করে বেশ বেচাকেনা হয় বলে জানান তিনি। ছয় মাস বয়সী টার্কি
বিক্রি করেও ভালো লাভ হয়। এ ছাড়া সুপার স্টোর, অভিজাত রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন
সামাজিক অনুষ্ঠানে টার্কির চাহিদা রয়েছে। টার্কি খামারি ছায়েফ উল্যাহ বলেন,
ফেসবুক ও ব্যানার টাঙিয়ে প্রচারণা চালানোর পর এরই মধ্যে মিরসরাইয়ের অনেক
ব্যক্তি খামারি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ও সহায়তা চেয়েছেন। টার্কি চাষে
শুরুতেই কেমন পুঁজির প্রয়োজন হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তিনটি মাদি
(স্ত্রী টার্কি) ও একটি নর (পুরুষ) টার্কি দিয়ে চাষ শুরু করা যায়। বাচ্চা
অবস্থা থেকে লালন-পালন করতে চাইলে চারটি বাচ্চা টার্কির দাম পড়ে চার হাজার
টাকা। বাসার ছাদ কিংবা খালি জায়গায় ছোট একটা শেড করতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার
টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে হাজার দশেক টাকা ব্যয় করলেই চলে। আবার কেউ যদি
বড় টার্কি কিনে চাষ শুরু করতে চান তাহলে চারটি টার্কির দাম পড়বে ১৬ হাজার
থেকে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শেড বানাতে লাগবে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা। অর্থাৎ
সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করলেই চলবে। টার্কি পালনের সুবিধার কথা
উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ঝামেলাহীনভাবে দেশী মুরগির মতো পালন করা যায়।
টার্কি বয়লার মুরগির চেয়ে দ্রুত বাড়ে। বাচ্চা অবস্থায় তিন মাস দানাদার
খাবার খায় পরের তিন মাস সবজি জাতীয় খাবার ও ঘাস লতা-পাতা খেয়েই টার্কি বড়
হয়। সব খরচ বাদে প্রতিটি টার্কিতে লাভ হয় এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা। জানা
যায়, টার্কি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল
করে আছে। পুষ্টিবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে ছায়েফ বলেন, টার্কির গোশতে প্রোটিনের
পরিমাণ বেশি, চর্বি কম তাই গরু কিংবা খাসির গোশতের বিকল্প হতে পারে।
টার্কির গোশতে অধিক পরিমাণে জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। নিয়মিত
টার্কির গোশত খেলে কোলেস্টোরেল কমে যায়। আমাদের দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ
টার্কির জন্য খুবই উপযোগী। টার্কি পালন করে মানুষ সহজে নিরাপদ আমিষের অভাব
পূরণ করতে পারে। মিরসরাই উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি পোদ্দার
বলেন, টার্কি আসলেই একটি লাভজনক গৃহপালিত প্রাণী। যে কেউ টার্কি পালন করতে
চাইলে আমরা সব সেবা দিতে প্রস্তুত। উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধকরণে তারা সহায়তা
করছেন বলে জানান তিনি।
No comments:
Post a Comment