
লিবিয়ায়
দালাল চক্রকে খুশি করতে পারলেই দেখা মিলবে ইউরোপের টিকিট। সারা জীবনের
ধন-সম্পদের বিনিময়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যেতে অভিবাসীদের অপেক্ষা করতে হয় মাসের
পর মাস। কখনও বছরের পর বছর। আছে কথায় কথায় দালালদের চড়-থাপ্পড়-লাথি। ধর্ষণ
তো মামুলি ব্যাপার! সকাল-সন্ধ্যা নরকগুলজার। এত কিছুর পরও অনিশ্চয়তা। আদৌ
ইউরোপের দেখা মিলবে কি? তবে নারীদের ক্ষেত্রে অবশ্য এসব
ঝক্কি-ঝামেলা-দুঃশ্চিন্তা অনেকটাই কম। নিজের শরীর বিলিয়ে দালালকে খুশি করতে
পারলেই হয়! রাতারাতি মিলবে ইউরোপে ঢোকার ‘টিকিট’। মঙ্গলবার প্রকাশিত
সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আফ্রিকান অভাব, সহিংসতা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী-শিশু পাড়ি
জমাচ্ছে ইউরোপে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী,
আফ্রিকা থেকে আসা অসহায় অভিবাসীদের মাসের পর মাস আটকে রাখে মানব
পাচারকারীরা।
তারপর চলে নির্যাতন ও ধর্ষণ। এমনকি পতিতাবৃত্তিতেও বাধ্য করা
হচ্ছে নারীদের। কয়েকদিন আগে সিএনএনের দুই নারী ও এক পুরুষ সাংবাদিক অবৈধ
অভিবাসী সেজে দালাল চক্রের সঙ্গে কথা বলেন। মানব পাচারকারীদের অবৈধ
কর্মকাণ্ডের দালিলিক তথ্য তুলে এনেছেন তারা। প্রথমে নাইজেরিয়ার ইদো
প্রদেশের এক দালালের সঙ্গে কথা বলেন। দর-দাম ঠিক করেন। জনপ্রতি ৫ লাখ নাইরো
(১৪০০ ডলার)। দালাল সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলে, এত কম টাকায় কিন্তু ইউরোপে
পৌঁছানোর নিশ্চয়তা একেবারেই কম। তার পরেই একটা প্যাকেজের কথা বলে সে।
‘ভিআইপি’ প্যাকেজ। এই প্যাকেজের আকর্ষণীয় অফার হল প্রতিটি অভিবাসী পরিবারে
যে কয়জন নারী সদস্য থাকবে, তাদের লিবিয়ার দালালদের খুশি করতে হবে। যদি তারা
খুশি হন, তাহলে একদিনের মধ্যেই পুরো পরিবারকে ইউরোপের নৌকায় তুলে দেয়া
হবে। দালাল তাদের এটা বলেও আশ্বস্ত করে যে, এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং
সুবিধাজনক প্যাকেজ। লিবিয়াতে এমনিতেই অভিবাসী নারী-শিশুদের
নির্যাতন-ধর্ষণের শিকার হতে হয়। কিন্তু এখানে সেসবের বালাই নেই। এমনকি এই
প্যাকেজে মহিলাদের গর্ভনিরোধক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়।
No comments:
Post a Comment