Wednesday, February 28, 2018

স্বেচ্ছায় আইএস উগ্রবাদীদের বিয়ে! ১৬ তরুণীর ফাঁসি

ইসলামিক স্টেট তথা আইএস বা আইসিস উগ্রবাদীদের স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছিল ১৬ জন তুর্কি তরুণী। এই অপরাধে ১৬ জনকেই ফাঁসির সাজা দিয়েছে ইরাকের আদালত। ইরাকে আইএস উগ্রবাদীদের বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সাধারণত কোনো মহিলা যদি আইসিস উগ্রবাদীকে বিয়ে করে, তাহলে সেই মহিলার আজীবন কারাবাস অথবা ফাঁসির শাস্তি হবে। এমনটাই বলছে ইরাকি আইন। ওই ১৬ জন তরুণীকে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করে ইরাকি সেনাবাহিনী। তখনই জানা যায়, ১৬ জনই আইএস উগ্রবাদী। তারা আইসিসের চরমপন্থী ভাবধরায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসলামিক স্টেট সংগঠনে নাম লেখায়। পাশাপাশি আইএস উগ্রবাদীদের বিয়েও করে। গ্রেফতার হওয়া ১৬ জনের কী সাজা হতে পারে, তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল কয়েক দিন ধরে। শেষ পর্যন্ত রোববার ইরাকের কেন্দ্রীয় ফৌজদারী আদালত ওই মহিলা উগ্রবাদীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। এজলাসে বিচারপতি আবদুল সাত্তার আল বেরাকদার ধৃতদের সাজা শোনান। শুনানির সময় ১৬ জনই স্বীকার করে নিজেদের অপরাধ। জানিয়ে দেয়, কোনোরকম জোরাজুরি নয়। স্বেচ্ছায় আইসিস উগ্রবাদীদের বিয়ে করেছে তারা। উগ্রবাদীদের প্রশিক্ষণও হয়েছে তাদের। সুযোগ পেলে আত্মঘাতী হামলা চালাতেও বদ্ধ পরিকর। কিন্তু কোনো রকম নাশকতার ছক কষার আগেই তাদের গ্রেফতার করে সেনা। এরপরেই ফাঁসির সাজা শোনায় আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৭-র ডিসেম্বরে সেনাবাহিন ও সরকারের পক্ষ থেকে ইরাককে আইসিস উগ্রবাদী মুক্ত ঘোষণা করা হয়। বলে হয়, ইরাকের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে থাকা আইসিস উগ্রবাদীদের পুরোপুরি খতম করা হয়েছে। আইএসয়ের দখলে আর কোনো এলাকা নেই। যুদ্ধের পর নানা দেশের নানা বর্ণের কয়েক শ' মুসলিম মহিলা ইরাকি সেনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এদের বেশির ভাগেরই বিচার চলছে। অনেককেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে। এই প্রথম একসঙ্গে এতজনকে ফাঁসির সাজা দিলো ইরাকি আদালত।

No comments:

Post a Comment