ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
আশুগঞ্জের জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল কায়ছারের বদলীর আদেশ
প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মানব বন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে
এলাকাবাসী। এসময় রাস্তার দু’পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীর্ব যানজটের
সৃষ্টি হয়। এতে দূর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। পরে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভবিক করে। রোববার সকাল ১১ টায় আশুগঞ্জ
গোলচত্তর এলাকায় ইএনও’র বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মান্ববন্ধন
কর্মসুচিতে অংশ নেয় এলাকাবাসী। মান্ববন্ধনে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের
চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় দুই শহ¯্রাধীক লোকজন অংশগ্রহন
করেন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদী জনতা স্থানীয় গোলচত্তর ও রেলগেইট এলাকায় টায়ার
জ¦ালিয়ে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ
করে রাখে । এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং প্রায় ১০
কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীর্ব যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে সকাল থেকেই
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার
মানুষ আশুগঞ্জ গোলচত্তর এলাকায় জড়ো হতে থাকে । সচেতন এলাকাবাসীর ব্যানারে ৭
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাড়াও এতে অংশগ্রহন করেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ
আশুগঞ্জ কমান্ড, জাগ্রত আশুগঞ্জবাসী, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জাদুর
শহর আশুগঞ্জ, আশুগঞ্জ উদ্যোক্তা ফোরাম, নবীন যুব সংঘ ও ঘাতক দালাল নির্মূল
কমিটি, আশুগঞ্জসহ অনেক সংগঠন। মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে
বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা বেগম, জাগ্রত
আশুগঞ্জবাসীর সদস্য সচিব ঈসা খান, আশুগঞ্জ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির
সভাপতি মো. মোবারক আলী চৌধূরী, আশুগঞ্জ সুন্নি জামাতের সভাপতি মো.
মহিউদ্দিন মোল্লা, আড়াইসিধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া, সদর
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন, চরচারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন
খন্দকার, তালশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সামা,
লালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
ম.ম আবুল খায়ের, শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধূরী, তারুয়া
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইদ্রিস হাসান, মুক্তিযোদ্ধা শেখ মো. জসিম, আশুগঞ্জ
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহীন শিকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের
সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান কবির প্রমূখ। এসময় বক্তারা জানান,
অবিলম্বে আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল কায়ছারের বদলীর আদেশ
প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় তারা হরতালসহ আরো কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী
জানান। ইউএনওর বদলী প্রত্যাহার করা না হলে সোমবার সকাল থেকে উপজেলার কোন
সভায় যোগদান না করার কথাও জানান চেয়ারম্যানরা। উল্লেখ্য যে গত ২২
ফেব্রুয়ারি চট্্রগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার
(সার্বিক) মোমিনুর রশিদ আমিন স্বাক্ষরিত এক আদেশে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
অফিসারকে পার্বত্য জেলা বান্দরবনের আলীকদম উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তাকে
বদলির আদেশটি আশুগঞ্জ আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জনবান্ধব ও সৎ অফিসার হওয়ায় সাধারণ লোকজন তাকে বদলির
বিষয়টিকে ভালভাবে নেয়নি এবং ক্ষোভ জানিয়ে আসছিল। রোববার রাজপথে নেমে আসার
মাধ্যমে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার আশুগঞ্জ উপজেলায়
২০১৬ সালে ১২ জুন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন আমরুল
কায়ছার। যোগদানের পর থেকে আশুগঞ্জে শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ
রোধ, আধুনিক উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন নির্মাণ, বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ,
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মান উন্নয়ন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয় গুলোতে
মিড ডে মিল চালু, উপজেলা পরিষদে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পার্ক স্থাপনসহ
উপজেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু, আশুগঞ্জ
উপজেলার সরকারি কাচারি পুকুরে পার্শ্বে র্দীঘ দিন দখলে থাকা সরকারি জায়গা
উদ্ধার করতে গিয়ে প্রভাবশালিদের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাকে।
No comments:
Post a Comment