নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাবেক শিবির ক্যাডার ও জামাত সমর্থিত ডাঃ মোঃ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী‘র বিরুদ্ধে এবার জখমি সনদের প্রতিবেদন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্টারে থাকলেও প্রতিবেদনে নাই জখমির নাম। এভাবে জখমি সনদ না দিয়ে ও জালিয়াত করে একজন জামাত নেতাকে জেল মুক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভিকটিমের পরিবার। সাধারন মানুষের প্রশ্ন , হাসপাতালের ভিতর একি হচ্ছে? আর কত অনিয়ম সহ্য করা হবে এ হাসপাতালের এমন অভিযোগ সাধারন মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে নানা অবিযোগে জর্জরিত কক্সবাজারের দরীদ্র মানুষের একমাত্র সরকারী এ প্রতিষ্টানটি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের বিরুদ্ধে টেন্ডার বানিজ্য,দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের মান সম্মত খাবার না দেয়ার অভিযোগ, রোগীর জখমি সার্টিফিকেট বানিজ্য, কন্সালটেন্ডরা সপ্তাহে একবার মাত্র হাসপাতালে আসা, দর্শণার্থীদের টিকেট নিয়ে হয়রানি , বহিঃবিভাগের রোগীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, দালালদের রোগী টানাটানি, হাসপাতাল থেকে ঔষুধ না দিয়ে রোগীদের মাধ্যমে সব ঔষুধ কিনে আনা, জরুরী বিভাগে অব্যবস্থাপনা, ডাক্তারদের ক্লিনিক বানিজ্য, কেবিন বানিজ্য,এমআরদের দৌরাত্ম, যথাসময়ে ভর্তিকৃত রোগীর দেখাশুনা না করা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস না মানা ও বিসিএস ক্যাডারের সাথে হাসপাতাল সুপারের দূর্ব্যবহার সহ একাধিক অভিযোগে ভরপুর থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। রকমারী এসব অভিযোগের মাঝে আবারো গুরুতর অভিযোগ উঠল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে, কাগজপত্রে রোগীর নাম থাকলেও আদালতে নাম জালিয়াত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এ ধরনের রোগীর বিষয়ে তিনি অবগত নন। সুত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রæয়ারী/১৮ ইং তারিখ মো¯Íাক আহমদ , পিতা মৃত ইসলাম আহমদ, সাং উত্তর নাপিত খালী পাড়া, ইসলামপুর , কক্সবাজার সদর কে এখই এলাকার মৃত আনু মিয়ার পুত্র,( জামায়াত ইসলামের সাবেক ইউনিয়ন আমীর, ফৌজদারী মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী সহ একাধিক মামলার আসামী ও প্রতারক) মন্জুর আলম গং মেরে গুরুতর আহত করলে ঐদিনই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ভর্তি হয়। এবং ১৯ ফেব্রæয়ারী থেকে ২৫ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত চিকিৎসাধীন থাকে। হাসপাতাল রেজিস্টারে ২৫১৯/৩৮ নং এ তার নাম রেজিস্টার দেখানো হয়। অথচ ভিকটিমের আহত হওয়ার দিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তার বক্তব্য ফলাও করে ছাপানো হয়, ভিকটিমের আঘাত গুরুতর হওয়ায় জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া উক্ত ঘটনার প্রেÿিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিআর মামলা নং ৪১/১২৪ রুজু হলে গত ২২ফেব্রæয়ারী ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাহাজ উদ্দিন মামলা তদন্তের স্বার্থে সদর হাসপাতালের আরএমও কে জখমি সনদ দেওয়ার আবেদন করেন। মামলায় ঐ সময় উক্ত জামাত নেতা মন্জুর আলমকে পুলিশ আটক করে জেলে দিলে তাকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন কৌশল করে বিভিন্ন মহল। তাদের সাথে এক হয়ে ভিকটিমের জখমি সনদ না দিয়ে সু-কৌশলে তালবাহনা শুরু করে সাবেক শিবির ক্যাডার ও সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শাহীন। পুলিশের আবেদনের পর গত ২৭ ফেব্রæয়ারী/১৮ ইং তারিখ কক্সবাজার সদর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত জখমি প্রতিবেদনের জন্য তাকে আদেশ দিলে বাধ্য হয়ে আদলতে তিনি গত ১ মার্চ/১৮ ইং তারিখ একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে ডাঃ শাহীন বড়ধরনের জালিয়াতের আশ্রয় নিয়ে পিতার নামে মৃত ইসলাম আহমদের স্থলে মৃত ইলিয়াছ মিয়া লিখে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং ভিকটিমের কোন কাগজ পত্র সংযুক্ত নাই তাই ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল কিনা তা তিনি জানেন না বিধায় ভিকটিমের সম¯Í প্রমানাদি নিয়ে তার কাছে হাজির না হওয়া পর্যন্ত জখমির পুর্ণাঙ্গ সনদ দেওয়া সম্ভবপর নয় বলে উলেøখ করেন। যার কারনে আসামী (জামাত নেতা মন্জুর আলম)কে গতকাল আদালত জামিন দিলেন বলে জানান ভিকটিমের পরিবার। তারা আরো জানান, সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শাহীন আবদুর রহমানের সাথে বার বার ধর্ণা দেওয়ার পর ও তিনি জামাত নেতাকে জেল থেকে মুক্ত করতে সনদ দিতে গড়িমসি করছে। এবং তিনি সফল ও হয়েছে তার জামিন হওয়ায়। তার জামিন হওয়ায় ইসলাম পুরের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ডাঃ শাহীন ও জামাত আর মন্জুর আলমও জামাত । অতএব, জামাত-জামাত ভাই ভাই, ন্যায় নীতির বালাই নাই। তিনি আরো বলেন, সরকারী চাকরী করে তিনি এখন জামাত মুক্তির আন্দোলন করে যাচ্ছে তার অবস্থান থেকে। উলেøখ্য যে ইসলামপুর ইউনিয়নের এ জামাত নেতা মন্জুর আলম সিআর-১২১৭/১৩ইং মামলার ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী, তাছাড়া জিআর ২৯১/১৪ (সদর), জিআর৬০/১৫ ইং(উখিয়া) মামলা সহ একাধিক মামলার আসামী, অন্যদিকে ইসলাম পুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪৪/১৩ ও ১৪১/১২ ইং মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতারনায় দোষি স্বাব্যস্থ হয়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমান মিলে এবং উচ্চ আদালতে প্রেরন করে। এদিকে জামাত নেতা মন্জুর আলম একজন ফৌজদারী মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও একাধিক মামলার এ আসামী হয়েও তিনি কিভাবে ডুলা ফকির(রঃ) মাজার (ওয়াক্ফ) এর মোতোওয়ালøী নিয়োগ হলো এলাকাবাসী জানতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপÿের ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে কোন শক্তির বলে জামাত নেতা এভাবে দাপটের সাথে চষে বেড়াচ্ছে তা কারো বোধগম্য নয়। উলেøখ্য যে জখমি সনদ বানিজ্যের এ হুতা ডাঃ শাহীনের বিরুদ্ধে চাহিত টাকা না দিলে সনদ না দেওয়া ও গড়িমসি করা, আবার বেশী টাকা দিলে সাধারন জখমকে গ্রিভিয়াচ সনদ দেওয়া ছাড়া ও হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের সাথে তিনি প্রত্যÿ ভাবে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায়। যা আগামী পর্বে উলেøখ করা হবে।
এ বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী’র স্যালফোন, ০১৮১৬-৪৩৮৪০০ ও ল্যান্ডফোন ০৩৪১-৬৩৫৮৪ নাম্বারে বারবার ফোন করে ও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। চোখ রাখুন আগামী পর্বে।

No comments:
Post a Comment