Thursday, March 15, 2018

পেকুয়ায় বনজ সম্পদ ও বালিপাচার থামাতে সড়কে পিলার


পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় পাহাড়ী এলাকায় একটি সড়কে পিলার স্থাপন করা হয়েছে। বনজ সম্পদ ও পাহাড়ী ছড়া থেকে উত্তোলিত বালি পাচার থামাতে বনবিভাগ সড়কে এ অংশ পিলার দিয়ে আটকিয়ে দেয়। যানবাহন চলাচল থামাতে গ্রামীন সড়কের অংশে পিলার দেয়া হয়। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের দুর্গম মধুখালী পাহাড়ী সড়কে পিলার স্থাপন করা হয়। গতকাল দুপুরে বনবিভাগ এ উদ্যোগ নেয়। ওই দিন বনবিভাগ টইটং ইউনিয়নের মধুখালী গহীন পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দুটি অবৈধ বালিমহালে অভিযান চালানো হয়। মধুখালীর নওশাফইল্যা আরতআলীর মুখ নামক স্থানে দুটি অবৈধ বালিমহাল আছে। পাহাড়ী ছড়া থেকে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করে। পৃথক দুটি বালিমহালে বিপুল পরিমান বালি মজুদ করে। সরকারী রাজস্ব না দিয়ে একটি বালিখেকো সিন্ডিকেট লাখ লাখ ঘনফুট বালি পাচার করছিল। জামায়াত নেতা মৌলভী হারুন ও যুবলীগ নেতা রবিউল আলম এ দুটি বালিমহালের নিয়ন্ত্রক। তারা বর্ষা মৌসুমে এ সব বালি স্ক্যাভেটর দিয়ে উত্তোলন করে। গত তিন মাস আগে থেকে মহাল থেকে স্তুপীকৃত বালি বিক্রি ও পাচার করে। চট্রগ্রাম  দক্ষিন বনবিভাগের টইটং বনবিট অবৈধ বালি মহালে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বনবিটের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বালি পাচার সিন্ডিকেট সদস্যরা দ্রুত সটকে যান। তারা বালি ভর্তি কয়েকটি ড্রাম ট্রাক ফিরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার বনবিভাগের বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের জনবল ছাড়াও টইটং এলাকায় নিয়োজিত বন পাহারাদাররাও এ অভিযানে যায়। এ সময় মধুখালী মাহামুদউল্লাহর দোকানের সামনে সড়কে পিলার স্থাপন করা হয়। বালি পাচার ও পাহাড়ী গাছ গাছালী পাচার থামাতে ওই দিন মধুখালী হাজিবাজার সড়কের এ অংশে পিলার স্থাপন করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মৌলভী হারুন একজন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। কয়েক বছর আগে থেকে বালি পাচারে জড়িত। পাহাড়ী ছড়া থেকে বালি উত্তোলন করে রাতারাতি কোটিপতি হন। পাহাড়  ছড়ায় মিশিয়ে উত্তোলন করছে বালি। এতে করে বনভূমি ও উচু টিলাসমুহ চরম হুমকির মধ্যে পড়ে। পরিবেশে এর বিরুপ প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে। ওই জামায়াত নেতা বালি বিক্রি করে দুটি ডাম্পারের মালিক। এ সব ডাম্পারে বালি পরিবহন হচ্ছে। ডাম্পার দুটি লাইসেন্সবিহীন। তবে পাহাড় থেকে মাটি পাচার ও ছড়া থেকে বালি পাচারে তার ডাম্পারের জুড়ি মেলেনা। 

No comments:

Post a Comment