
বাসা
থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এক সেলফি, বিমানে উঠার আগে আরেকটি সেলফি দিয়ে
বন্ধু ও স্বজনদের নেপালে বেড়াতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন হাসি ও রকিবুল
দম্পত্তি। কিন্তু এখন সেই ছবিগুলো কেবলই স্মৃতি। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের
প্লেনের যাত্রী ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট)
শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসি। তার স্বামী রকিবুল ইসলাম রুয়েটের একই বিভাগের
শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে ঢাকায় চাকুরি করেন। রকিবুল সিরাজগঞ্জের চৌহালী
উপজেলার বাঘুটিয়ার ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের মৃত রবিউল করিমের ছেলে। বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী। জানা যায়,
১৫ দিনের ছুটিতে তারা নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এর আগেই তাদের
বিমান বিধ্বস্ত হয়। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এখনও জানতে পারেনি তাদের পরিবার।
অনেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তারা। এদিকে রুয়েট শিক্ষক
ও ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি বহনকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানাজানি হলে থানার
ওসি জাহাঙ্গীর আলম রবিকুলের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এলাকায় মানুষের
মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, নেপালের রাজধানী
কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সোমবার বাংলাদেশী একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে
কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ৭১
জন আরোহী নিয়ে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করার পরপরই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তখন
বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপালের পুলিশ বিবিসিকে জানিয়েছে, ৩১ জন
ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আরো ৯ জন পরে হাসাপাতালে মারা গেছেন। এখনও আটজন
নিখোঁজ রয়েছে। বাকিদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকের
অবস্থাই গুরুতর। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের একজন নেপালের একটি সংবাদপত্রকে
বলেছেন, বিধ্বস্ত বিমানটির জানালা দিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। এবং তিনি
নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা
যায়নি।
No comments:
Post a Comment