দালালদের খপ্পরে রোহিঙ্গা নারীরা
নিউজসিটিজি
ডেস্কঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা ও দোসরদের হত্যা-নির্যাতনে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন বয়সী রোহিঙ্গা নারী পড়েছেন দালালদের খপ্পরে। কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল ও বাসা-বাড়িতে তাদের যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।নিউজ২৪.কমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাকা নিয়ে হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন বয়সী রোহিঙ্গা নারী। রয়েছে শিশুও। আর অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্মী ও খদ্দেরের মধ্যে যোগাযোগ করে দিচ্ছে কক্সবাজার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়েকশ’ দালাল।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে চারজন দালালের ফোন নম্বর পাওয়া যায়। এরপর খদ্দের সেজে যোগাযোগ করা হয় দালালদের সঙ্গে। ফোন করা মাত্রই রোহিঙ্গা নারী সরবরাহ করতে রাজি হন তিনজন। রোহিঙ্গা নারীদের দুটি ভাগে ভাগ করে দর নির্ধারণ করেন দালালরা। সে দুটি ভাগ হলো—এক. রোহিঙ্গা, দুই. বার্মিজ।এ সময় ভালো রোহিঙ্গা মেয়ে পাওয়ার ব্যাপারে ফোনে এক দালাল কক্সবাজারের আঞ্চলিক ভাষায় জানান, এখানে পাওয়া যাবে না। ক্যাম্প থেকে এনে দিতে হবে। প্রতি বার্মিজ মেয়ের জন্য তাকে দিতে হবে চার হাজার টাকা। এরপর রাতে বিভিন্ন দালালের সঙ্গে ফোনে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তারা আশ্বাস দেন বিভিন্ন আস্তানা ঘুরিয়ে দেখানোর।পরদিন সকালেই ফের যোগাযোগ হয় দালালদের সঙ্গে। নিয়ে যাওয়া হয় ‘কাঙ্ক্ষিত সেই ঠিকানায়। দালালরা সব আস্তানা ঘুরেও দেখান। প্রতিটি ঘরেই তিন-চারজন রোহিঙ্গা তরুণী। চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক। দৃষ্টি আকর্ষণের নানা চেষ্টা। আলাপচারিতায় নাসির, বেবি ও বকুল নামের দালালরা নিজেদের এনজিও কর্মী বলে পরিচয় দেন। এদের মধ্যে বেবি আক্তার অহরহ রোহিঙ্গা নারী সরবরাহের কথা জানান।কয়েকজন রোহিঙ্গা তরুণীকে দেখিয়ে বেবি আক্তার মন্তব্য করেন, এরা ভালো হবে। বার্মিজ মেয়ে ভালো হবে না। তাদের কাছে পাঁচ হাজার বার্মিজ মেয়ে আছে। লাগলে দেবে।খদ্দের খুঁজতে যৌনকর্মীরা নির্জন রাস্তাগুলোকেই বেছে নেন। কারণ, এখানে সবসময় পুলিশ থাকে না বলেও জানান তারা।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছে রোহিঙ্গা নারীদের দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য ও পরিসংখ্যান নেই। তবে তারা ধারণা করছেন, যেসব পুরনো রোহিঙ্গা আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাদের ও দালালদের হাত ধরে নতুন রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছেন এই অনৈতিক অন্ধকার জগতে।পুলিশের দাবি, বিষয়টি রোধ করতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত অনেক দালালকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আফরুজুল হক টুটুল জানান, যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের তালিকা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই তালিকা ধরে ধরে তারা অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।গত নভেম্বরে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন পেশায় জড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কক্সবাজার শরণার্থী ক্যাম্পের ১০ হাজার নারী।
No comments:
Post a Comment