Saturday, May 5, 2018

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পে বাধা, কক্সবাজারের ভারুয়াখালীবাসী ফুঁসে উঠেছে


প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পে বাধা, কক্সবাজারের
স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ
সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নে সরকারের জায়গায় সরকারী ভাবে গৃহিত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ও অগ্রাধিকার প্রকল্প গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে যে কোন ভাবে। কারো চোখ রাঙ্গানি ও ভয় ভিতিকে মুজিব সৈনিকরা পরোয়া করবেনা। সরকারের উন্নয়ন কাজে যারা বিঘœ সৃষ্টি করবে তাদেরকে ভারুয়াখালীবাসী চিহ্নিত করবে। এবং উন্নয়ন বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে ভারুয়াখালীবাসী কে সঙ্গে নিয়ে। গতকাল বিকাল তিন ঘটিকার সময় ভারুয়াখালী বাজার প্রাঙ্গনে ভারুয়াখালী উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প “গুচ্ছ গ্রাম” (২য় পর্যায়) নির্মান প্রকল্পে বাধা প্রদান করায় প্রতিবাদ সভা ও মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ভারুয়াখালী দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল হুদা মেহেদী’র সভাপতিত্বে উক্ত সভায় স্থানিয় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও স্থানিয় গন্যমান্য ব্যাক্তিগন বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারুয়াখালীর উইনিয়নের আওয়ামিলীগ সাধারণর সম্পদক মাঈন উদ্দিন, সাবেক সাধারণর সম্পদক জালাল আহাম্মদ খোকন, ভারুয়াখালীর উইনিয়ন দপ্তর সম্পদক সেলিম উল্লাহ, ভারুয়াখালীর উইনিয়নের সহ-সভাপতি নুরুল আজিম কাজল,ছাত্রলীগ ভারুয়াখালীর উইনিয়নের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাসেম(জয়), যুগ্ম আহাবায়ক আকাশ,ছাত্র নেতা সারজিদ মোঃ পাপ্পু ছাত্রনেতা মনির ছাত্রনেতা রফিক, ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ ভারুয়াখালীর হাজার হাজার জনতা। বক্তাগন বক্তব্য রাখাকালিন সময় উপস্থিত হাজার হাজার জনতা সোচ্ছার কন্ঠে সরকারী জায়গায় সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্টার পক্ষে মুহুর্মুহ আওয়াজ উঠে। এবং যে কোন মুল্যে প্রভাবশালী মহলের বাধা উপেক্ষা করে গৃহহীনদের গৃহ নির্মান করা হবে বলে হাত তুলে সমর্থন জানান। বাস্তুহারা পরিবারকে মাথা গুজার ঠাই একটি গৃহ প্রদানের  প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প গুচ্ছ গ্রাম বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।  
সরে জমিনে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নে সরকার স্থানীয় বাস্তুহারা পরিবার কে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭ একর সরকারী ভারুয়ালী মৌজার ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত খাস জমির উপর ১০০ বাস্তুহারা পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিশেষ প্রকল্প " গুচ্ছ গ্রাম বিনির্মানের লক্ষ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান সিকদার কে সভাপতি করে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কামাল উদ্দীন কে সাধারন সম্পাদক করে ভারুয়াখালী মৌজায় বিশেষ গুচ্ছ গ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি চলতি বছরের মার্চের প্রথম সাপ্তাহে অনুমোদন সদর উপজেলা গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষন কমিটি। সুচনাপর্বে সুত্র ১ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয় এর স্মারক নং ০৫.২০.২২০০.১২৮.০৫.০০৭.২০১৭/১৪৯৫' তারিখ ২১/১২/২০১৭ খ্রিষ্ঠাব্দ ও সূত্র ২ ভুমি মন্ত্রনালয় ( গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প)ঢাকা এর স্মারক নং ৩১.০৮.০০০০.০০২.১৪.০২০.১৭-৫৯৯, তারিখ ২৬/১১/২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পেক্ষিতে ২০১৭- ২০১৮ অর্থ বছরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পে মাটির কাজ বাস্তবায়নের মোট ২৮৬.৩৭২ মেঃ টন উপ বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  শফিকুর রহমান সিকদার বরাবরে ৭১.৫০০ মেঃটন চাল সরবরাহের আদেশ জারী করেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নোমান হোসেন। যার অনুলিপি ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ২ য় পর্যায়(সিভিআরসি) প্রকল্প কক্সবাজার জেলা প্রশাসক,কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা,কক্সবাজার, বরাবরে প্রেরন করেন।
সেই শর্ত মোতাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান সিকদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অপরাপর সদস্যরা গুচ্ছগ্রাম বির্নিমানে মাটির কাজ শুরু করলে এলাকার একটি চিহ্নিত ভুমিদস্যু চক্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজসে ভাড়াটিয়া লোকজন লেলিয়ে দিয়ে গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পে মাটি ভরাট বন্ধ করে দেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি তাৎক্ষনিক বিষয় টি কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নোমান হোসেন কে অবহিত করলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেন থানা পুলিশ নিয়ে গুচ্ছ গ্রাম বাস্তবায়ন স্থলে যান। এবং পুনরায় মাটির ভরাটের কাজ শুরু করেন।
এদিকে ভারুয়াখালী এলাকা পরিদর্শন কালে জানা যায়, গুচ্ছ গ্রামে ব্যবহৃত জায়গা প্রকৃত পক্ষে সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের রেকর্ড়ভুক্ত হলে ও দীর্ঘদিন ধরে স্থানিয় প্রভাবশালী চিহ্নিত মহলটি জবরদখলে ছিলেন। তারা মৌসুমে মৌসুমে বর্গা চাষীদের মৌখিক লাগিয়ত করে প্রতিবছর মোটা অংকের টাকা পকেটে পুরতেন। সেই কারনে এডভোকেট নুরুল ইসলাম,ও এডভোকেট সেলিম, প্রবাসী শহিদুল¬াহ,মাস্টার আবুল হোসেন,আবু ছিদ্দিক গং লাল মোঃ সিকদার ভাগাভাগি করে জবরদখল করে নিজেরা ফায়দা লুটার জন্য জমিগুলো দরিদ্র পরিবারের বলে চালিয়ে দিয়ে বিশেষ সুযোগ খোঁজছেন। অথচ এরা সবাই প্রতিপত্তিশালী। ভাড়া করা কিছু মানুষকে তারা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা দিতে বিএনপি জামায়াত চক্রটি উঠেপড়ে লেগেছে। এসব জবর দখলকারীরা গুচ্ছগ্রামের কর্মকান্ড বন্ধ করতে না পেরে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  ও গুচ্ছ গ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, বানিয়া পাড়ার শফিকুর রহমান সিকদার, রমিজ আহমদ,গিয়াস উদ্দীন,জসিম উদ্দীন,রহিমুদ্দিন সর্বপিতা মৃত আবু ছিদ্দিক ও চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের পুত্র ওয়াহেদ আরেফিন,বজলুর রহমানের পুত্র শাহীন উদ্দীন, চৌচুলামুরা এলাকার মৃত মোজাহের মিয়ার পুত্র নুরুল হুদা, বানিয়া পাড়ার মৃত আবুল বশরের পুত্র আলম ও সাবেক পাড়ার মমতাজুল হকের পুত্র আমানুল হক কে আসামী করে হাজী রাহমত সালাম নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই মিথ্যা মামলা দায়েরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা যে কোন মুল্যে সরকারের জনগন বান্ধব গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প ভারুয়াখালীতে বাস্তবায়নের দাবীতে সরব হয়ে উঠেন।
গতকাল ভারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সরাকারী জায়গায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে বাধা কেন? গুচ্ছ গ্রাম তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। আর বাস্তুহারাদের মাথা গুজার ঠাঁই করে দিচ্ছে মাদার অব হিউমিনিটি জন নেত্রী শেখ হাসিনা। এতে যারা বিরোধিতা করবে তারা কখনো সরকারের উন্নয়নের পক্ষে হতে পারেনা। গুটিকয়েক প্রভাবশালীদের জন্য মানবতা বঞ্চিত হতে পারেনা। 






ভারুয়াখালীবাসী ফুঁসে উঠেছে

No comments:

Post a Comment