
চট্রগ্রামের (দুঃখখ্যাত)
জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক মেগা
প্রকল্প। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে
পরিত্রান পাবে নগরবাসী। চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া “চট্রগ্রাম শহরের
জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারন, সংস্কার ও উন্নয়ন” শীর্ষক এ মেগা
প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা ইতোমধ্যে কাজ
শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগরের যেসব এলাকায় বেশি
জলাবদ্ধতা দেখা দেয় নালা ও খাল পরিস্কার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার এ মেগা
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে। প্রকল্প অনুসারে সব অবকাঠামো নির্মান
করা হবে। নগরের চাক্তাই, বকশিরহাট, দেওয়ানবাজার, খাতুনগঞ্জ, বৃহত্তর বাকলিয়া,
চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকা ও চান্দগাওয়ের কিছু অংশে বেশি
জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব এলাকার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে প্রকল্প যুগান্তকারী
ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের বৃহৎ
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের প্রত্যেক খাল ও
নালা পরিস্কার এবং খনঙ্কাজ চালানো হবে। পরবর্তীতে চট্রগ্রাম শহরের
জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারন, সংস্কার ও উন্নয়ন এ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল নালা পরিস্কারের
মধ্যদিয়ে এ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পেক্ট্রা লিমিটেড এবং করিম গ্রুপকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে সিইজিআইএস নামক একটি
সরকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পের আওতায়
প্রথমদিকে ৩৬টি খালের মধ্যে ১৬টি খালের কাদা পরিস্কার ও খননকাজ করা হবে। সেগুলো
হলো- চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল-১, মির্জা খাল, রাজাখালী খাল-২,
রাজাখালী খাল-৩, মরিয়মবিবি খাল, হিজরা
খাল, বামুনশাহী খাল (কোদালকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খাল বামুনশাহী
খালের অন্তর্ভূক্ত), বাকলিয়া খাল নামে পরিচিত চাক্তাই ডাইভারসন খাল, নোয়া খাল
(বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), খন্দকিয়া খাল ও নাছির খাল। চট্রগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরিসনে একনেকে শর্তস্বাপেক্ষে
২০১৬ সালের ৯ আগষ্ট এ মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই
মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) গভর্ণমেন্ট অর্ডার (জিও) এবং জিও পাওয়ার
পরপরই একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
এ প্রকল্পে শুধুমাত্র
খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারন, সংস্কার ও উন্নয়নই নয় বরং খালের পাশের অবৈধ স্থাপনা
উচ্ছেদ, খাল সংরক্ষণ দেয়াল, খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণও করা হবে। এতে
করে আগামী ২০২১ সালে চট্রগ্রামের চেহারাই বদলে যাবে। তুলনা করা যাবে
নেদারল্যান্ডসের মত বিশ্বনন্দিত শহরের সাথে যেখানে তার রাজধানীর মধ্য দিয়ে
প্রবাহিত খালগুলো সিটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সত্যিকারার্থে ক্লিন
সিটি, গ্রীণ সিটিতে পরিণত হবে চট্রগ্রাম।
No comments:
Post a Comment