কক্সবাজারে সেই ইয়াবা গডফাদারের ‘জেলা ফুটবল লীগ’ বাতিল
সিটিজি ডেস্কঃমূল ধারার চারটি দলকে বাদ দিয়ে জেলা ফুটবল লীগ আয়োজন করেছিল কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ)। কালো টাকার প্রভাব বিস্তার করে এই হটকারী সিদ্ধান্তের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ডিএফএ’র সহ সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনচারী। জেলা লীগ মাঠে গড়ানোর দিনক্ষণও ঠিক হয়।
এরইমধ্যে ইয়াবা গডফাদারের অসৎ উদ্দেশ্যে জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে আয়োজিত জেলা লীগ বন্ধ করতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ডিএফএ সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বরাবরে চিঠি ইস্যু করে জেলা ফুটবল লীগ স্থগিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বুধবার (১৭ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে সিভয়েসের কক্সবাজার প্রতিনিধির হাতে বাফুফের এই চিঠির কপি পৌছে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ স্বাক্ষরিত (১৬ অক্টোবর) ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘চারটি ক্লাবের অংশগ্রহণের বিষয়ে মতামত প্রদানসহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমতবস্থায় বাফুফে কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ফুটবল লীগ আরম্ভ না করার জন্য বলা হল।’
বাফুফে কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটিতে আছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য মো. ইলিয়াছ হোসেন, সদস্য বিজন বড়ুয়া, ম্যানেজার কম্পিটিশন জাবের বিন তাহের অথবা হাসান মাহমুদ।
বাফুফের নির্দেশনার বিষয়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘আমরা বাফুফে দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সংস্থা। সুতরাং বাফুফের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিঠির বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো আমার হাতে এসে পৌছায়নি। চিঠি পেলে জরুরি সভা ডেকে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, কক্সবাজার ডিএফএ জেলা লীগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ন্যাশনাল কক্সসহ ৪টি দলকে বাদ দিয়ে লীগ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সমালোচনায় মুখরিত ছিল কক্সবাজারের ক্রীড়াঙ্গন। এই আয়োজনের খলনায়ক ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনচারীর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ক্রীড়াবিদরা।
এদিকে বুধবার দুপুরে ডিএফএ’র সহ সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনচারীর বাড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি। কয়েকদিন আগেও যৌথবাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালায়।
সম্প্রতি প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকে ইয়াবা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘সীমান্তের ৬০ শতাংশ ইয়াবা পাচার নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকজন গডফাদারের মধ্যে শাহজাহান আনচারী একজন। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সীমান্তে ইয়াবা পাচার রোধের অভিযান আলোর মুখ দেখবে।’
শাহজাহান আনচারীকে ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করতে কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি অপমিশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা ঢেলে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনচারী। এমনকি ফুটবলের সাবেক এবং বর্তমান কয়েকজন স্টারমানের খেলোয়াড়কেও আনচারী ইয়াবা বহনে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ আছে।
যেখানে সরকার যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে ক্রীড়ামুখি করার চেষ্টা করছে, সেখানে কক্সবাজারের পুরো ক্রীড়াঙ্গন ইয়াবা গডফাদারের হাতে জিম্মি হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিভয়েস/এমডিকে/এমইউ
No comments:
Post a Comment