পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া নওয়াজ শরিফের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী
বলেছেন, নতুন সরকার সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের
অভিযোগ এনে তাঁর বিচার করবে। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী পাকিস্তান
মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রধান নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী
হিসেবে পরিচিত এমপি তারিক আজিম গত সোমবার মোশাররফের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার
কথা বলেন। সাংবাদিকদের তারিক আজিম বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে সাবেক জেনারেল মোশাররফের বিচার করার সিদ্ধান্ত
নিয়েছি। মোশাররফ সংবিধান লঙ্ঘন করেছিলেন। সেই কৃতকর্মের ফল তাঁকে ভোগ করতে
হবে।’ তারিক আজিম আরও বলেন, নওয়াজ শরিফের অবস্থান স্পষ্ট। মোশাররফের
সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রেষারেষি নেই। তবে সংবিধান ও আইন লঙ্ঘনের জন্য
মোশাররফকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। চাপা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের
চূড়ান্ত পরিণতিতে পারভেজ মোশাররফ ১৯৯৯ সালে অভ্যুত্থান করে নওয়াজ শরিফকে
ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। মোশাররফ তাঁকে বহনকারী বিমান করাচিতে নামতে বাধা
দেওয়ায় বিমান ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন নওয়াজের
বিরুদ্ধে। তবে নওয়াজকে সমঝোতার মাধ্যমে ২০০০ সালে সপরিবারে সৌদি আরবে
নির্বাসনে পাঠান মোশাররফ। ১১ মের নির্বাচন পরিচালনাকারী তত্ত্বাবধায়ক
সরকার বলছে, ম্যান্ডেটের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী জেনারেল পারভেজ মোশাররফের ‘দেশদ্রোহের’ বিচার করতে পারছে না। তবে
পিএমএল-এন বলেছিল, তারা নওয়াজ সরকারকে উৎখাত করা এই সেনাশাসককে ছাড় দেবে
না। বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, তারা
এমন কোনো বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে পারে না, যা আগামী সরকারের পক্ষে উপেক্ষা
করা সম্ভব হবে না। এদিকে, রাওয়ালপিন্ডির বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত
(এটিসি) গতকাল বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলায় মোশাররফের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
দাখিল করতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফআইএ) ১৪ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন।
বর্তমানে পারভেজ মোশাররফকে তাঁর ইসলামাবাদের উপকণ্ঠের খামারবাড়িতে বন্দী
রাখা হয়েছে। বেনজির হত্যা ছাড়াও সেনা অভিযানে বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতা
আকবর বুগতি হত্যা ও বেশ কয়েকজন বিচারককে অন্তরীণ করার দায়ে তিনি বিচারের
সম্মুখীন। ডন ও এনডিটিভি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment