চীনা হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ
অস্ত্রব্যবস্থার নকশা হ্যাক করেছে। গত সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট-এর খবরে এ
কথা বলা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জন্য ডিফেন্স সায়েন্স বোর্ডের
তৈরি করা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, হ্যাক করা
অস্ত্রের নকশার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও জাহাজ এবং ইউরোপ, এশিয়া ও
উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
হ্যাক হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে উন্নততর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র
ব্যবস্থা, নৌবাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, এফ/এ-১৮
যুদ্ধবিমান, ভি-২২ অসপ্রে, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও এফ-৩৫ জয়েন্ট
স্ট্রাইকার ফাইটার। তবে প্রতিবেদনে সাইবার হামলার সময় বা ব্যাপ্তির বিষয়ে
স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। মার্কিন সরকারের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক,
ঠিকাদারি বা উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না,
সে বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সাইবার
গুপ্তচরবৃত্তি চীনকে এমন প্রযুক্তি জ্ঞান দিতে পারে, যা সংঘাতের সময় কাজে
লাগানো যেতে পারে। এটি তাদের যোগাযোগ বিঘ্নিত করার সামর্থ্য এবং
তথ্য-উপাত্ত ধ্বংস করার সক্ষমতাও জোগাতে পারে। চলতি মাসে কংগ্রেসে দেওয়া
এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, চীন তার সামরিক
বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য গুপ্তচরবৃত্তিকে ব্যবহার করছে এবং এটা একটা বড়
উদ্বেগের বিষয়। পেন্টাগন আরও বলেছিল, হ্যাকিংয়ের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে
মার্কিন সরকার এবং আপাতদৃষ্টিতে ‘চীনের সরকার ও সামরিক বাহিনী এর সঙ্গে
সরাসরি জড়িত’। এদিকে গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি
টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা
অস্ট্রেলিয়া সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) সদর দপ্তরের
নকশা চুরি করেছে চীনা হ্যাকাররা। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের হ্যাকাররা
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি হামলার
লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ তালিকায় ইস্পাত উৎপাদনকারী ব্লুস্কোপ স্টিল এবং
সামরিক-বেসামরিক যোগাযোগের পণ্য উৎপাদনকারী কোডান লিমিটেডও রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী দল গ্রিনস পার্টি গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, চীনাদের
হ্যাকিংয়ের খবরটি ‘বড় ধরনের নিরাপত্তা কেলেঙ্কারি’ এবং এ ঘটনার তদন্ত
হওয়া উচিত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, চীন
সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যাপক মনোযোগ দিয়েছে এবং সব ধরনের সাইবার
হামলার জোর বিরোধিতা করছে। রয়টার্স।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment