অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এমনকি সমগ্র ইউরোপের সর্বপ্রাচীন বোলোনিয়া
ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠারও বহু আগে পঞ্চম শতকে ভারতের বিহার রাজ্যে গড়ে
উঠেছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। চীন, ইরান এমনকি গ্রিসের মতো দূরবর্তী দেশ
থেকেও শিক্ষার্থীরা আসতেন এই বিদ্যাপীঠে। ১১৯৩ সালে বখতিয়ার খলজির বাহিনী এ
খ্যাতনামা শিক্ষায়তনকে ধ্বংস করে। এখন এটি নিছকই এক প্রত্নতাত্ত্বিক
নিদর্শন। ঐতিহাসিক এ প্রত্ন নিদর্শনকে আবারও একটি আন্তর্জাতিক
শিক্ষানিকেতনে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন
বিদ্যানুরাগী ও পণ্ডিতদের একটি দল এ কাজে হাত দিয়েছেন। তাঁদের নেতৃত্বে
রয়েছেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁরা চাইছেন,
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাজগিরে
সম্পূর্ণ আধুনিক একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। এর উপাচার্য
অমর্ত্য সেন। বৌদ্ধদর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা প্রাচীন ওই বিহারের
আদলের সঙ্গে সংগতি রেখে সেখানে নতুন ভবন গড়ে তোলা হবে। নতুন এ ভবনগুলোর
নকশার কাজ চলছে। অবকাঠামো নির্মাণের দৃশ্যমান কাজ শুরু না হলেও ইতিমধ্যে
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অস্থায়ী ভবন নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের
মেধাবী গবেষকদের এখানে গবেষণা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রথম বছর
ইতিহাস ও বাস্তব্যবিদ্যা—এ দুটি অনুষদ চালু হবে। আগামী বছর এ দুই অনুষদে
শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে। অমর্ত্য সেন বলেছেন, প্রাচীন নালন্দা
বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হতে সময় লেগেছিল ২০০ বছর। নতুন এ
বিশ্ববিদ্যালয় বিকশিত হতে তত সময় না লাগলেও কয়েক দশক লেগে যাবে।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, তাঁরা বিশ্বমানের এমন একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে
তুলতে চান, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা
জ্ঞানসাধনা করতে আসবেন। এ নতুন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, অর্থনীতি ও
ব্যবস্থাপনা, এশীয় সংহতি, টেকসই উন্নয়ন ও প্রাচ্যের ভাষার ওপর জোর দেওয়া
হবে। অমর্ত্য সেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির ফরেস্ট্রি
স্টাডিজ, ব্যাংককের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগ, দক্ষিণ
কোরিয়ার সিউল ইউনিভার্সিটি ও চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তাঁদের
প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকবে। বিবিসি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment