বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের দুর্দশা লাঘবে নতুন এক অর্থনৈতিক
রূপরেখা তৈরি করেছে জাতিসংঘ। এ রূপরেখাসংবলিত একটি প্রতিবেদন আজ
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের হাতে তুলে দেবেন ইন্দোনেশিয়ার
প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোইয়োনো। ইয়োধোইয়োনো, লাইবেরিয়ার
প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড
ক্যামেরনের নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশের ২৪ জন মন্ত্রী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও
বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল এ রূপরেখা তৈরি করেছে। সহস্রাব্দ
উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে আরও কী করণীয় এবং তা করার জন্য
প্রয়োজনীয় তহবিল কীভাবে জোগাড় হতে পারে, তার একটি ধারণা ওই রূপরেখায়
থাকছে। ২০০০ সালে নির্ধারণ করা এমডিজি পূরণের সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে এটি
তৈরি করা হয়েছে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যে আটটি লক্ষ্য নির্ধারণ
করা হয়েছিল, তা পূরণ করা এবং তা পূরণের উপায় ঠিক করার জন্য জাতিসংঘের
হাতে এক হাজার দিনের কম সময় রয়েছে। ২০০০ সালে জাতিসংঘ সম্মেলনে উন্নয়ন
লক্ষ্যমাত্রার চুক্তি সই হওয়ার সময় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, দিনে সোয়া এক
ডলারের নিচে উপার্জনকারী মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে ও পাঁচ বছরের কম বয়সী
শিশুর মৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে এবং এইডসের বিস্তার ঠেকাতে
ছয় হাজার কোটি ডলারের দরকার হবে। জাতিসংঘ বলছে, বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন,
বিশেষত চীনের ‘অলৌকিক’ অর্থনীতি বিপুল পরিমাণ নতুন সম্পদের সৃষ্টি করার
কারণে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। অন্যান্য
লক্ষ্যমাত্রা স্থিতিশীল গতিতে এগোচ্ছে। তবে বানের রূপরেখা প্রণয়নকারী
প্যানেল বলছে, এখনো বিশ্বের ১৫০ কোটি লোক চরম দারিদ্র্যে নিপতিত। এসব
দরিদ্রের বেশির ভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,
রূপরেখায় নবায়ন করা ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে নতুন
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। বৈশ্বিক মন্দার কারণে গত পাঁচ বছরে দাতা
দেশগুলোর সহায়তা দেওয়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক
সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, উন্নয়ন লক্ষ্য
অর্জনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, লক্ষ্য
অর্জনে ধনী দেশগুলোকে তাঁদের সহায়তাদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।
দারিদ্র্যের লক্ষণকে নয়, বরং কারণকে মোকাবিলা করতে হবে। ক্যামেরন বলেন,
সুশাসন ও দুর্নীতি হ্রাসের প্রতি গুরুত্বারোপ হবে নতুন লক্ষ্য অর্জনের
অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। প্যানেলের অন্যতম সদস্য পূর্ব তিমুরের অর্থমন্ত্রী
এমিলিয়া পাইরেস দরিদ্রতম দেশগুলোকে সাহায্য করার অংশ হিসেবে সেখানকার
চলমান সহিংস পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এএফপি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment