ভারতের ছত্তিশগড়ে উপজাতি নেতা মহেন্দ্র কর্মা ও রাজ্যের কংগ্রেসের
প্রধান নন্দকুমার প্যাটেলকে হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী)। মাওবাদীরা বলেছে, মাও দমনে
‘সালওয়া জুদুম’ বাহিনী গঠন এবং ‘অপারেশন গ্রিন হান্টের’ প্রতিশোধ হিসেবে
ওই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলায় কংগ্রেসের অন্যান্য ‘নিরপরাধ’ সদস্য নিহত
হওয়ায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সিপিআইয়ের (মাওবাদী) এক
বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিটি ই-মেইলে ভারতের নির্দিষ্ট কিছু
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পিপলস লিবারেশন
গেরিলা আর্মির (পিএলজিএ) ক্যাডারদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল মহেন্দ্র
কর্মা ও অন্য কয়েকজন কংগ্রেস নেতাকে খতম করা।’ বিবৃতিতে সিপিআইয়ের
(মাওবাদী) দণ্ডকারণ্য বিশেষ অঞ্চল কমিটির মুখপাত্র গুশা উসেন্দি দাবি করেন,
ওই হামলার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বিতর্কিত ‘সালওয়া জুদুম’ গঠনের প্রতিশোধ
নেওয়া। নকশালবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০০৫ সালে ‘সালওয়া জুদুম’ গঠন
করা হয়। এ কারণে তখন বস্তার এলাকায় বড় ধরনের সহিংসতা শুরু হয় এবং হাজার
হাজার গ্রামবাসী বাড়িছাড়া হয়। বিবৃতিতে ‘রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত’
সহিংসতায় বিভিন্ন সময়ে নিরপরাধ মানুষ নিহত হলেও এর বিরুদ্ধে কথা না বলায়
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের
প্রধান সোনিয়া গান্ধীসহ অন্যদের সমালোচনা করা হয়েছে। এতে নকশালদের কথিত
স্বাধীন অঞ্চল দণ্ডকারণ্য থেকে আধা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, উপজাতি
অধ্যুষিত বস্তারে অপারেশন গ্রিন হান্ট বন্ধ এবং সব বন্দী মাওবাদীকে মুক্তি
দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হামলা নিয়ে রাজনীতি না করতে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
কংগ্রেসের একটি বিবৃতির উদাহরণ টেনে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাজিব প্রতাপ
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সর্বত্র শোক আর চ্যালেঞ্জ বিরাজ করছে।
এটা দোষারোপের রাজনীতি করার সময় নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দু।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment