ইরাকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতা চলছেই। গতকাল বৃহস্পতিবারও
কয়েকটি পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে
নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে অন্তত ১৬৬ জনের প্রাণহানি
হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ইরাকের নেতাদের প্রতি রাজনৈতিক সংঘাত
বন্ধের জন্য জরুরিভিত্তিতে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছে। তবে ইরাকের সরকার
কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে তেমন তৎপর নয় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তাদের
ভাষ্য, সরকার শুধু কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদে রদবদল এবং
নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কিছু অস্পষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল রাজধানী বাগদাদের
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে চারজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দুটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও ১৪ জন আহত
হয়। এ ছাড়া ইরাক-জর্ডান মহাসড়কে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই
সীমান্ত পুলিশকে গুলি করে হত্যা করে। উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরে একই দিন ভোরে
গাড়িবোমা বিস্ফোরণে তিন পুলিশ নিহত হয়। এ বছরের শুরু থেকেই ইরাকজুড়ে সহিংসতার মাত্রা বাড়তে
থাকে। এ সময়ে সংখ্যালঘু সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের
সৃষ্টি হয়। কারণ, অনেক হামলার শিকারই তারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে সাদ্দাম হোসেন উৎখাত
হওয়ার আগ পর্যন্ত সংখ্যালঘু সুন্নিরাই ইরাকের ক্ষমতায় ছিল। তবে এখন তারা
অভিযোগ করছে, শিয়া প্রাধান্যপুষ্ট শাসকেরা সুন্নিদের শোষণ ও বঞ্চনার
লক্ষ্যবস্তু করছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের দূত মার্টিন কবলার ইরাকের নেতাদের
প্রতি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। নানা
অন্তর্ঘাতে জর্জরিত ইরাকের সরকার রক্তপাত বন্ধে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এএফপি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment