সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গত সোমবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত
বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও
বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এক বছর বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ইইউ। ইইউভুক্ত
কোনো দেশ আপাতত সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করবে না। এতে সংঘাত
বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলন বিঘ্নিত হতে পারে
বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রাসেলসের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও
ফ্রান্সের একজন কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে
তত্ত্বগতভাবে। আসল কথা হলো, ১ আগস্টের আগে অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে কোনো
সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ
বলেন, ‘সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে শিগগিরই অস্ত্র সরবরাহের কোনো পরিকল্পনা
আমাদের নেই। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আমরা সে কথা ভাবব। ইইউ আমাদের সেই
অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে।’ এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা ইইউর
সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করলেও একে ‘খুব দেরিতে খুব ছোট পদক্ষেপ’
আখ্যা দিয়েছে। সরকারবিরোধী প্রধান জোট ন্যাশনাল কোয়ালিশনের মুখপাত্র
লুয়ে শফি বলেন, ‘ইইউর এই সিদ্ধান্তে সিরিয়ার জনগণ অসন্তুষ্ট। আমরা
সিরিয়ার বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা চাই। অস্ত্র নিরাপত্তার একটি উপকরণ
বটে, কিন্তু আমরা ইইউর কাছ থেকে আরও দৃঢ় সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছিলাম।’
বিদ্রোহীদের মুখপাত্র কাসেম সাদেদ্দিন ইইউর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন, ‘আমরা কেন আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করব? আরও দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে?
আর এই সময়ের মধ্যে সিরিয়ার জনগণ গণহত্যার শিকার হতেই থাকবে?’ তিনি আরও
বলেন, ‘আমাদের বিমানবিধ্বংসী রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ট্যাংক দরকার।’
ইইউর সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের
মিত্র বলে পরিচিত রাশিয়া। মস্কো অভিযোগ করেছে, ইইউর এই সিদ্ধান্ত শান্তি
সম্মেলনের উদ্যোগকে ‘সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত’ করবে। রাশিয়ার উপপরাষ্ট্রমন্ত্রী
সের্গেই রিয়াভকভ বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলো সিরিয়ার
বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন পেল। আসন্ন শান্তি সম্মেলন
প্রসঙ্গে গতকাল তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সম্মেলনের আয়োজনে সবচেয়ে বড় বাধা
হলো, বিদ্রোহীরা আলোচনার প্রতিনিধি ঠিক করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে
পৌঁছাতে পারছে না। অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফ্রান্স: সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের
বিরুদ্ধে সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে
ফ্রান্স। দেশটির শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার জানান,
সিরিয়া-ফেরত দুজন সাংবাদিক কিছু নমুনা নিয়ে এসেছেন। সেই নমুনা পরীক্ষার
জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোও হয়েছে। তবে নমুনা হিসেবে কী আনা
হয়েছে বা কোন জায়গা থেকে তা আনা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ
করেননি তিনি। লেবাননের তিন সেনা নিহত: পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকায় একটি
তল্লাশি চৌকিতে বন্দুকধারীদের গুলিতে লেবাননের তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানান, গুলি চালানোর পর বন্দুকধারীরা সিরিয়ার
সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা
নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে এর সঙ্গে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সম্পর্ক থাকতে
পারে। সিরিয়ার সংঘাতের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী লেবাননেও। দেশটির কট্টরপন্থী
গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সরাসরি প্রেসিডেন্ট বাশারের পক্ষে লড়াই করছে। এর ফলে
হিজবুল্লাহবিরোধীরা লেবাননে সংগঠনটির ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে। এ ছাড়া
লেবাননেও বাশারের পক্ষ ও বিরোধীদের মধ্যে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
এএফপি, রয়টার্স।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment