Monday, November 25, 2013

কয়েদির অভাবে কারাগার বন্ধ

সুইডেনের কারাগারগুলোতে কয়েক বছর ধরেই কয়েদির সংখ্যা কমছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য রকম কমেছে। এ অবস্থায় বাড়তি কারাগার রাখা প্রয়োজন মনে করছে না সরকার। তারা জানিয়েছে, চলতি বছর তারা চারটি কারাগার বন্ধ করে দিচ্ছে।
কারাপ্রধান নিলস ওবার্গ বলেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি, কয়েদির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এখন আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে কারাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়ার। এগুলো এখন আমাদের দরকার নেই।'
ওবার্গ জানান, সুইডেনে কারাগারের সংখ্যা ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ কমছিল। ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কমার হার বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছর ও আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। তিনি জানান, এ কারণে কারা বিভাগ এ বছর অ্যাবি, হাজা, ব্যাটসহাগেন ও ক্রিস্টিয়ানস্ট্যাড শহরের কারাগার বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্যে দুটি বিক্রি করার ও বাকি দুটি সরকারের অন্য সংস্থার কাছে অস্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সম্ভাবনা আছে।
কয়েদির সংখ্যা এত দ্রুতগতিতে কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কী তা জানা না গেলেও ওবার্গ মনে করেন, সুইডেনের উদার কারাব্যবস্থা এবং কয়েদিদের পুনর্বাসনের প্রতি বিশেষ নজর কয়েদিদের সংখ্যা কমার পেছনে আংশিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সুইডেনের সুপ্রিম কোর্ট ২০১১ সালে এক রায়ে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের লঘু শাস্তির বিধান দেয়।
ওবার্গ বলেন, 'আমরা নিশ্চিতভাবেই মনে করি, কয়েদিদের পুনর্বাসন ও তাদের অপরাধে পুনরায় লিপ্ত হওয়া প্রতিরোধে আমরা যে ব্যবস্থা নিয়েছি তার একটা প্রভাব রয়েছে।'
ওবার্ড আরো জানান, ভবিষ্যতে কয়েদির সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে তারা দুটি কারাগার হাতে রেখেছে। এগুলো প্রয়োজনে আবারও চালু করা হবে।
স্টকহোম ইউনিভার্সিটির অপরাধ বিজ্ঞানবিষয়ক অধ্যাপক হানস ভন হোফার এ ব্যাপারে জানান, প্রথমবার চুরি, মাদক গ্রহণ কিংবা সহিংসতার মতো ছোটখাটো অপরাধের লঘু শাস্তির সরকারি নীতি কয়েদি সংখ্যা কমার একটা বড় কারণ বলা যায়।
২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সুইডেনে যত কয়েদি কমেছে তার মধ্যে ৩৬ শতাংশ চুরিসংক্রান্ত অপরাধের, ২৫ শতাংশ মাদকসংক্রান্ত ও ১২ শতাংশ সহিংস কার্যক্রমসংক্রান্ত। সরকারি হিসাবে, ২০০৪ সালে সুইডেনে কয়েদির সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল পাঁচ হাজার ৭২২ জন। ২০১২ সালে তা কমে চার হাজার ৮৫২ জনে দাঁড়ায়। সূত্র : গার্ডিয়ান।

No comments:

Post a Comment