জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় চার্জ গঠন
আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদনের ওপর
শুনানি শেষ হয়েছে। বুধবার এ ব্যাপারে আদেশ দিবে হাইকোর্ট। বিচারপতি
বোরহানউদ্দিন এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ
দিবে। হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার
মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং ব্যারিস্টার
জমির উদ্দিন সরকার। তারা শুনানিতে বলেন, এ দু’টি মামলায় চার্জগঠনের
ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি। ফৌজদারী কার্যবিধির
২৪১(১) ধারা অনুসারে অন্য যে কোন আসামির মতো খালেদা জিয়া অব্যাহতির আবেদন
করেছিলেন।

তার
সেই আবেদনের শুনানি না করেই অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনের পূর্বে তাকে
অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়নি। তিনি দোষী নাকি নির্দোষ সেটা খালেদা জিয়াকে
জিজ্ঞেস করা হয়নি। বিচারক খাস কামরায় বসে পেশকারের মাধ্যমে অভিযোগ গঠনের
বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন মাত্র। এভাবে অভিযোগ গঠন ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২
ধারা লংঘন। স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের কোন লেনদেনের সঙ্গে খালেদা
জিয়া জড়িত নন। ট্রাস্টের লেনদেন সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রের কোথাও খালেদা
জিয়ার কোন সাক্ষর নেই। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল
মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ করেই মামলা দু’টিতে
চার্জ গঠন করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৮ই অগাস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট
দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন
রশিদ। ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে
চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে
অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় মামলা
দায়ের করে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়
ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায় গত ১৯শে মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ
গঠনের আদেশ দেন।
No comments:
Post a Comment