রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী সবসার
গ্রামের আজাহার আলী ও রাহেলা দম্পতি অভাবের তাড়নায় তাদের ১০ বছরের কন্যাকে
চট্টগ্রামে কাজে পাঠিয়েছিলেন। সেই ২০০১ সালে কাজে গিয়ে হারিয়ে যায় আজেলা।
এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে কন্যার সন্ধান পেলেন বাবা-মা। বৃহস্পতিবার
আজেলাকে (২৩) চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে
তের বছর পর কন্যাকে ফিরে পাওয়ায় ওই দম্পতির বাড়িতে আনন্দ বইছে। অনেক দিন
পর ভাই-বোন কাছের মানুষদের ফিরে পেয়ে আজেলাও উল্লসিত। উদ্ধারকৃত আজেলা
জানালেন, বাসার মালিকের কেয়ারটেকার মোস্তফা, তার স্ত্রী তাহেরা বেগম, তাদের
ছেলে-মেয়ের লোমহর্ষক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে যান।
আজও সেই লোমহর্ষক ঘটনাগুলো তাকে তাড়া করে। সেই অত্যচারের চিহ্ন এখনও শরীর
থেকে মুছে যায়নি। শরীরে এখনও মারপিটে সৃষ্ট ঘায়ের দাগ রয়েছে। পিঠে রয়েছে
লোহার খুন্তি পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার দাগ। মাথার চুল তুলে ফেলা হয়। তিনি আরও
জানান, তাকে আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে আকবর শাহ্ থানার
সিটি গেইট কার্নেলহাট উত্তর বাউলির মৃত কালু ড্রাইভারের ছেলে ব্যবসায়ী
শাহেদ আকবরের মা ও শাশুড়ি তাকে বাসায় নিয়ে যান। এরপর তারা আজেলাকে ৬ মাস
চট্টগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে পুনরায় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে
যান এবং ১১ বছর রাখেন। ওই বাড়ির লোকজন তার নতুন নাম রাখেন হাজেরা। আজেলার
পিতা আজাহার আলী জানান, একই গ্রামের মোস্তফা চট্টগ্রামের এক বাসায়
কেয়ারটেকারের কাজ করতেন। সেখানেই তিনি স্ত্রী তাহেরা বেগম ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে
বসবাস করতেন। তারা তার ১০ বছরের মেয়ে আজেলাকে তাদের বাড়িতে কাজ দিবেন বলে
নিয়ে যান ১৩ বছর আগে। আজেলা তাদের সঙ্গে দেড় বছর থাকার পর একদিন মোস্তফা
জানান, তারা আজেলাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। পরে তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন
এলাকায় খোঁজ করেও তাকে পায়নি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলে বিভিন্ন
সময় মোস্তফা ও তার স্ত্রী বিভিন্নভাবে আশ্বাস দিয়ে থামিয়ে রাখতেন। এইভাবে
১৩ বছর পার হয়ে যায়। যারা তার মেয়েকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছেন, বড় করেছেন-
তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা তার মেয়েকে নির্যাতনের
মাধ্যমে রাস্তায় ঠেলে দিয়েছিল তাদের বিচার দাবি করছি। প্রসঙ্গত, সমপ্রতি
রাজশাহীর বাগমারার কয়েক ব্যক্তি চট্টগ্রামের শাহেদ আকবরের বাড়িতে
রাজমিস্ত্রির কাজ পান। তাদের মাধ্যমে শাহেদ আকবর আজেলার প্রদত্ত ঠিকানায়
খবর পাঠান। খবর পেয়ে আজেলার বাবা-মা গত বুধবার চট্টগ্রামে গিয়ে তাদের
মেয়েকে চিনতে পারেন। আজেলাও তার বাবা-মা’কে চিনতে পারেন। শুরু হয় মা-বাবা ও
মেয়ের আনন্দের কান্না।
No comments:
Post a Comment