Saturday, April 12, 2014

তিনবিঘা করিডরে মজিনা

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্টদূত ড্যান মজিনা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর ও বহুল আলোচিত তিনবিঘা করিডর পরিদর্শন করেছেন। রাষ্টদূত বেলা ১২টায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছালে সেখানে কর্তব্যরত কাস্টমস কর্মকতা আব্বাস উদ্দিন ও পুলিশ ইমিগ্রেশন কর্মকতা আনোয়ার হোসেন রাষ্টদূতকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে রাষ্টদূত পুলিশ ইমিগ্রেশন ও কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।
 
ড়িমারী  স্থলবন্দরে ভারত, নেপাল ভুটান থেকে কি পরিমাণ এবং কি কি দ্রব্য সামগ্রী আমদানি রপ্তানি হয় তার বিস্তারিত বিবরণ জানার পর বুড়িমারী স্থলবন্দরে রক্ষিত বিভিন্ন মালামাল পরিদর্শন করেন। তিনি পুলিশ ইমিগ্রেশনের কাছে জানতে চান, প্রতিদিন কতজন মানুষ এ সীমান্ত পথে ভারত, নেপাল, ভুপানসহ অন্য দেশে যাতায়াত করেন। মানবপাচার, মাদক ও চোরাচালানসহ বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পুলিশ ইমিগ্রেশন এ সম্পর্কে তাকে আশ্বস্ত করে যারা পাসপোর্টে যাতায়াত করে তা সম্পূর্ণ কমম্পিটারাইজড সিসটেম করা হয় মানবপাচারের প্রশ্নই ওঠে না। এ প্রসঙ্গে মজিনা বলেন, মানুষের চেহারা চিহ্নিত করার জন্য এখানে কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়? পরে তিনি জিরো পয়েন্ট এলাকা সরজমিন পরিদর্শন শেষে বহুল আলোচিত তিনবিঘা করিড়রের উদ্দেশে বুড়িমারী ত্যাগ করেন। তিনবিঘা করিডরের পূর্ব গেটে মার্কিন রাষ্টদূত পৌঁছালে ভারত নিয়ন্ত্রত তিনবিঘা করিডরে কর্তব্যরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে গেটে অভ্যর্থনা জানান এবং তাকে তিনবিঘা করিডরে অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য অনুরোধ করে কিন্তু রাষ্টদূত গেটে দাঁড়িয়েই কুশলাদি বিনিময় করে পাটগ্রাম ফিরে আসেন। পাটগ্রাম উপজেলা চত্বরে তিনি মধ্যাহ্নভোজ করেন ও বেলা ৩টার দিকে পাটগ্রাম ত্যাগ করেন। এ সময় তার সফর সঙ্গী ছিলেন জুলহাস মান্নান, প্রটোকল ইওএস এ আইডির কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট মাহিন রশিদ ইয়ানিনা, জেরুজেলাংকি  ইউএসএআইডি  মিশন পরিচালক ও রাষ্টদূতের একান্ত সচিব র‌্যায়ান পয়ান্ট। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে প্রেস সচিব সৈয়দ মহসিন জানান আজ সকাল সাড়ে ৯টায় রংপুরে তার এ সফর সম্পর্কে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। প্রেস সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রদূত বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিশেষ কতগুলো কারণে পরিদর্শনে এসেছেন। তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনোমিক করিডর বিষয়ে অনেক বেশি প্রাধান্য দেন। আর ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনোমিক করিডর হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ভারত-চিন-সিঙ্গাপুর দেশগুলোর মধ্যে যে বাণিজ্যিক জোট রয়েছে তা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক বৃহৎ শক্তিতে পরিণত হবে। আর এ পুরো এলাকার ঠিক মাঝখানে রয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য বাংলাদেশের গুরুত্বটা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বাধিক ।

No comments:

Post a Comment