দরজায় কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। আর মাত্র ২ দিন। এরপরই
আসবে বাংলা ১৪২১ সন। বাঙালির সবচেয়ে বড় অসামপ্রদায়িক উৎসব। এ দিন জাতি,
ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মেতে উঠেন নতুন বছরকে বরণ করার জন্য। পুরাতন
বছরের গ্লানিকে ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যোমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেন তারা।
ব্যবসায়ীরা খুলেন নতুন হিসাবের খাতা। ঘরে উঠে নতুন পুঞ্জিকা। এই উৎসবকে সফল
করতে চলছে নানাবিধ আয়োজন। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথম শোভাযাত্রা বের করা হয়েছিল
১৯৮৯ সালে। ১৯৯৬ সালে নাম পরিবর্তন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও প্রথমে লোকে
একে আনন্দ শোভাযাত্রা বলেই জানতো।

বাংলা বর্ষবরণের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে
ওঠে এই শোভাযাত্রায় আপামর জনসাধারণ অংশ নেন। বিভিন্ন লোকজ উপসঙ্গ নিয়ে এ
শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়।
সুনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নিয়ে এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এবারের
শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে’।
বুধবার সংবাদ সম্মেলন থেকে এই তথ্য জানান জাতীয় বৈশাখ উদযাপন পরিষদের
আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সৈয়দ আবুল
বারক আলভী। বলেন, এবার শোভাযাত্রায় বাঙালি জাতির বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্য তুলে
ধরা হবে। শোভাযাত্রায় দুঃসময়ের কাণ্ডারি (হিন্দু-মুসলিম উভয় সমাজে) হিসেবে
থাকবে গাজী ও বাঘ। সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে থাকবে হাঁস, মাছের ঝাঁক, মা ও
শিশু এবং লক্ষ্মী পেঁচা। লোকঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিড়ালের মুখে চিংড়ি,
শখের হাঁড়ি। এর পাশাপাশি আরও থাকবে শিশু হরিণ, বাঘের মুখোশ দুইটা, ময়ূর,
ছোট পাখি দশটা। এছাড়াও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির নানা দিক
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় প্রাধান্য পাবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গতকাল সরজমিন চারুকলায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২০০
শিক্ষার্থী শোভাযাত্রার জন্য বিভিন্ন অনুষঙ্গ তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ ছবি
আঁকছেন। কেউবা মাটির সরায় রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন। ভাস্বকর্যের কাঠামো তৈরির
কাজও প্রায় শেষ পর্যায়। তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা। রাত-দিন
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারাও কাজ করছেন। উৎসাহ দিচ্ছেন
শিক্ষার্থীদের। কথা হয় চারুকলার মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশীষ কুমারের
সঙ্গে। তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যের যেসব খেলনা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা
বিলুপ্তির পথে, সেসব খেলনা এবারের বৈশাখে প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি
সরাচিত্র, খেলনা, পুতুল, নানা চিত্রকর্ম, মুখোশসহ আরও নানা ধরনের শিল্পকর্ম
থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের তৈরি এসব শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম বিক্রি করে
মঙ্গল শোভাযাত্রার ফান্ড করছি। শোভাযাত্রায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
No comments:
Post a Comment