লাতিন আমেরিকার অবিসংবাদিত সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
চাইতেন না তার লেখা নিয়ে কেউ ছবি করুক। তবে ভারতের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র
পরিচালক মৃণাল সেনকে তিনি তার ‘অটম অব দ্য পের্টিয়ার্ক’ নিয়ে ছবি বানানোর
অনুরোধ করেছিলেন। এজন্য তিনি কোন অর্থ নেবেন না বলেছিলেন।

কিন্তু
মৃণাল সেন এ ব্যাপারে তার অপারগতার কথা সরাসরি তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এ
ব্যাপারে মৃণাল সেন জানিয়েছেন, আসলে তিনি একটা ভারতীয় কানেকশন খুঁজছিলেন।
কিন্তু আমার পক্ষে ঐ গল্প নিয়ে ছবি বানানো সম্ভব ছিল না। ভারতীয় বাড়ির ছবি
থেকে গল্পটি ওঁর মাথায় এলেও পুরোটাই ভীষণ রকম লাতিন। মার্কেজ জানিয়েছিলেন,
ছোটদের কোন একটা বইতে তিনি একটা ভারতীয় বাড়ির ছবি দেখেছিলেন। সেই ছবিটিকে
মাথায় রেখেই লিখেছিলেন গল্পটি। মৃণাল সেন মার্কেজকে বলেছিলেন, গল্পে সমাজ
থেকে শুরু করে আদব-কায়দা সবই লাতিন আমেরিকার আদলে। ফলে সেটিকে ভারতীয়
প্রেক্ষাপটে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। মার্কেজ কথাটা মেনে নিয়েছিলেন। মার্কেজ
নিজেও চাইতেন না তার লেখা নিয়ে কোন সিনেমা তৈরি হোক। কথাটা তিনি হাভানায়
বসে মৃণাল সেনের সঙ্গে এক আড্ডায় বলেছিলেন। মার্কেজ মনে করতেন, ওর গল্পের
যা গঠন তা থেকে ছবি করা মুশকিল। গল্পের মূল চরিত্রটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
মার্কেজের মৃত্যুর পর তার সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলতে গিয়ে মৃণাল সেন
জানিয়েছেন, ১৯৮২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে
মার্কেজও ছিলেন জুরি হিসেবে। সেখানে প্রথম দেখা হলেও সেই আলাপ দ্রুত
বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, এর দু’তিন বছর পরে হাভানাতেই
মার্কেজের সঙ্গে অনেক আড্ডা হয়েছে। ছবি দেখতাম, বেড়াতে যেতাম সবই একসঙ্গে।
সাহিত্য থেকে কিভাবে ছবি বানানো যায় তা নিয়েও অনেক আলোচনা করেছিলেন তিনি
মার্কেজের সঙ্গে। মার্কেজ মনে করতেন, যে গল্প পাঠকের পছন্দ হয়, সে গল্প
নিয়ে যদি ছবি তৈরি হয় তাহলে দর্শক গল্পের ডিরেক্ট রিপ্রেজেনটেশন দেখতে চায়।
কিন্তু সেটা হলে আবার ছবির শৈল্পিক দিকটা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মৃণাল
সেন চেয়েছিলেন নোবেল জয়ী এই বিশ্বনন্দিত সাহিত্যিককে কলকাতায় আনতে। সেজন্য
আমন্ত্রণপত্রও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কেজ জানিয়েছিলেন, এমন কোন
আমন্ত্রণপত্র তিনি পাননি। এটাই সবচেয়ে বড় আফসোস, কলকাতা তার সান্নিধ্য থেকে
চিরদিনের জন্য বঞ্চিতই থেকে গেল।
No comments:
Post a Comment