রানা প্লাজা ধসের পর একটি বছর অতিবাহিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল
ঘটে যাওয়া ইতিহাসের মর্মান্তিক সে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১২৯ জন
পোশাক শ্রমিক। প্রায় আড়াই হাজার পোশাক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব
হয়েছিল। হতাহতদের পরিবারের আর্তনাদ আর আহাজারিতে আজও আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে
ওঠে। জরুরি ভিত্তিতে হতাহতদের পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন। রানা প্লাজা
দুর্ঘটনায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা এখন দুর্গতি ও চরম দারিদ্রের ভয়াবহ
ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার
সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: রানা
প্লাজা ভিকটিমস আর্জেন্টলি নিড অ্যাসিস্ট্যান্স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে
এসব কথা বলা হয়েছে।

এক
বছর পরও বহু আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার হাত না
বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এইচআরডব্লিউ’র
এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলছেন, বিদেশী রিটেইল
প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আহতদের এবং নিহত পোশাক শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল
পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক বিবৃতিতে আজ বলা
হয়েছে, এক বছর আগে রানা প্লাজা ভবন ধসে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা আজও তাদের
আঘাত ও আয়ের সংস্থানহীনতায় ভুগছে। আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো
এখনও আর্থিক সহযোগিতায় যথাযথ অবদান রাখেনি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার
(আইএলও) তত্ত্বাবধানে গঠিত ‘রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ডে’র লক্ষ্য হচ্ছে ৪
কোটি ডলার সংগ্রহ করা। কিন্তু, এ পর্যন্ত মাত্র দেড় কোটি ডলারের তহবিল
সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। গতকাল সরকারের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে,
ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেকে তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতার প্রথম ধাপে ৬৪৫ ডলার
করে পাবেন। এইচআরডব্লিউ’র কাছে জানানো আবেদনে রানা প্লাজা ধসে নানাভাবে
ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন তারা জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী শারীরিক ও মানসিক আঘাতে
এবং আয়ের সংস্থানহীনতায় ভুগছেন। কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের পরিবারের
সদস্যদের খাবারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে
পারছেন না। ধসের আগে রানা প্লাজার কাজের পরিবেশের নিম্নমানের কথাও
এইচআরডব্লিউ’কে জানান তারা। এদিকে এ পর্যন্ত যে দেড় কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ
করা হয়েছে, তার মধ্যে শুধু প্রাইমার্কই ৮০ লাখ ডলার অর্থ সহযোগিতা দিয়েছে।
এমনকি রানা প্লাজার সঙ্গে কোন বাণিজ্যিক লেনদেন না থাকা সত্ত্বেও মানবিক
কারণে কয়েকটি বিদেশী পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান অর্থ সহযোগিতা দিয়েছে।
পক্ষান্তরে, রানা প্লাজার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদেশী ১৫টি ব্র্যান্ড এখন
পর্যন্ত কোন ধরনের আর্থিক সহযোগিতা দেয়নি। তহবিলে অর্থ না দেয়ায় ওই
প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কারণ ব্যাখ্যা করতে চিঠি পাঠিয়েছে হিউম্যান রাইটস
ওয়াচ। চিঠির উত্তরে অধিকাংশ ব্র্যান্ডের বক্তব্য, রানা প্লাজা ধসের আগে
তাদের সঙ্গে কোন বাণিজ্যিক লেনদেন ছিল না। অন্যদিকে, যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান
রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ সহযোগিতা দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত,
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আরও অবদান রাখতে তাদের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা, তা
জানতেও চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। এর মধ্যে ৯টি রিটেইল
প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রানা প্লাজার সঙ্গে কোন বাণিজ্যিক লেনদেন না থাকার
পরও তারা সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়েছেন।
No comments:
Post a Comment