রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পূর্ব তেজতুরী
বাজার ইলেকট্রিক দোকানে আগুনে দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে
চকবাজারের ছোট কাটরার পারফিউম কারখানায় আগুনে দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে।

পূর্ব
তেজতুরী বাজারের নিহতরা হলেন আইপিএস ব্যবসায়ী ইবরাহীম খলিল (৩৫),
ইলেকট্রিক দোকান ম্যানেজার শফিউল আজম (৪৫) এবং ভ্যানচালক আবদুল লতিফ (৬০)।
ছোটকাটরায় নিহত ব্যক্তির নাম মফিজুর রহমান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় মারা যান।
মেডিকেল সূত্র জানায়, আগুনে দগ্ধ রোগীদের মধ্যে গতকাল দুপুরে বার্ন ইউনিটের
আইসিইউতে ইবরাহীম খলিলের মৃত্যুর ৩০ মিনিটের ব্যবধানে মারা যান শফিউল আজম।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আইএসডিইউতে মারা যান ভ্যান গাড়িচালক
আবদুল লতিফ। এখানে দগ্ধদের মধ্যে আরও চারজন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাদের
অবস্থাও আশঙ্কাজনক। বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল
সাংবাদিকদের জানান, নিহত ব্যক্তিদের শরীরের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ আগুনে পুড়ে
গিয়েছিল। সাধারনত আগুনে পোড়া এ ধরনের মুমূর্ষু রোগীর স্বাভাবিক হওয়ার
সম্ভাবনা কম থাকে।
সকালে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় তিনি রোগীদের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ইবরাহীম খলিলের ছেলের বুকফাটা আর্তনাদ অনেকের চোখে পানি এনেছে। নিহত শফিকুল তার বড় ভাইকে হারিয়ে বার্ন ইউনিটের করিডরে কান্না করছেন। ভাই হারনোর কান্না শোকাহত পরিবেশ আরও শোকাহত হয়ে উঠেছে। নিহতের স্বজনদের আর্তনাদ আহত রোগীর স্বজনদের হৃদয় আরও ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
স্বজনরা জানান, নিহত আবদুল লতিফের গ্রামের বাড়ি কেরানীগঞ্জের বরিসুরে। তার পিতার নাম আবদুল জব্বার ভূঁইয়া। ফয়সাল ও সিমলা নামে তার দু’টি সন্তান আছে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফয়সাল জানান, তার পিতা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার দুপুরে হোসনি দালান থেকে একটি থিনারের ড্রাম নিয়ে পূর্ব তেজতুরীবাজার বাজারে গিয়েছিলেন তার পিতা। বিকালে খবর পান তার পিতা আগুনে পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ডুবি গ্রামে। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশাহারা নিহত লতিফের স্ত্রী নাজমা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে সন্তান নিয়ে তিনি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ম্যানেজার শফিউল আজমের গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জ থানার বাদুরগাছায়। তার পিতার নাম আবদুল মালেক। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতেন পশ্চিম তেজতুরী বাজারের ৫৫/ই ভাড়া বাড়িতে। নিহতের ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা ছিলেন ৬ ভাই ৩ বোন। ভাই বড় ভাল মানুষ ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে তাকে সকলে পর উপকারী হিসেবে জানতেন। কিন্তু সেই ভাই আমারই চোখের সামনে অতিকষ্ট নিয়ে মারা গেছে বলার পর তিনি ভাইয়ের জন্য হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। আইপিএস ব্যবসায়ী ইবরাহীম খলিলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কড়িহাটি গ্রামে। তার পিতার নাম সহিদুল হক। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে পুরান ঢাকার ৭৫/২ আগাসাদেক লেন বংশালের একটি বাসায় থাকতেন। নিহতের শ্যালক মোরসালিন জানান, বছর খানেক আগে ইবরাহীম তার ছোট বোন লাভলীকে বিয়ে করেন। লাব্বি নামে তার দু’বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান আছে। কিন্তু আগুন এভাবে তার বোনের সংসার তছনছ হয়ে যাবে বলতেই তার দুটি চোখ জলে ভরে উঠে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন ৭২ পূর্ব তেজতুরী বাজারের মাহফুজ সুইং অ্যান্ড ইলেট্রিক দোকানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। দোকান মালিক, কর্মচারী ও ভ্যানচালকসহ ১১ জন গুরুতর দগ্ধ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। এদিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের পারফিউম তৈরির কারখানায় কন্টেইনার বিস্ফোরণে দগ্ধ মফিজুর রহমান মফিজ (৪০) গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। গত ২রা এপ্রিল চকবাজারের হাবিবল্লাহ রোডের ছোটকাটরায় পাঁচতলা ভবনের তারা সেন্টারের পারফিউম কারখানায় বিকালে আগুন লাগে। এ সময় মফিজসহ তিন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। মফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কাচিয়ারী। তার পিতার নাম ফজল গনি।
সকালে অগ্নিদগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় তিনি রোগীদের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ইবরাহীম খলিলের ছেলের বুকফাটা আর্তনাদ অনেকের চোখে পানি এনেছে। নিহত শফিকুল তার বড় ভাইকে হারিয়ে বার্ন ইউনিটের করিডরে কান্না করছেন। ভাই হারনোর কান্না শোকাহত পরিবেশ আরও শোকাহত হয়ে উঠেছে। নিহতের স্বজনদের আর্তনাদ আহত রোগীর স্বজনদের হৃদয় আরও ভারাক্রান্ত করে তুলেছে।
স্বজনরা জানান, নিহত আবদুল লতিফের গ্রামের বাড়ি কেরানীগঞ্জের বরিসুরে। তার পিতার নাম আবদুল জব্বার ভূঁইয়া। ফয়সাল ও সিমলা নামে তার দু’টি সন্তান আছে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফয়সাল জানান, তার পিতা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার দুপুরে হোসনি দালান থেকে একটি থিনারের ড্রাম নিয়ে পূর্ব তেজতুরীবাজার বাজারে গিয়েছিলেন তার পিতা। বিকালে খবর পান তার পিতা আগুনে পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ডুবি গ্রামে। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশাহারা নিহত লতিফের স্ত্রী নাজমা বেগম। স্বামীকে হারিয়ে সন্তান নিয়ে তিনি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ম্যানেজার শফিউল আজমের গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জ থানার বাদুরগাছায়। তার পিতার নাম আবদুল মালেক। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতেন পশ্চিম তেজতুরী বাজারের ৫৫/ই ভাড়া বাড়িতে। নিহতের ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা ছিলেন ৬ ভাই ৩ বোন। ভাই বড় ভাল মানুষ ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে তাকে সকলে পর উপকারী হিসেবে জানতেন। কিন্তু সেই ভাই আমারই চোখের সামনে অতিকষ্ট নিয়ে মারা গেছে বলার পর তিনি ভাইয়ের জন্য হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। আইপিএস ব্যবসায়ী ইবরাহীম খলিলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কড়িহাটি গ্রামে। তার পিতার নাম সহিদুল হক। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে পুরান ঢাকার ৭৫/২ আগাসাদেক লেন বংশালের একটি বাসায় থাকতেন। নিহতের শ্যালক মোরসালিন জানান, বছর খানেক আগে ইবরাহীম তার ছোট বোন লাভলীকে বিয়ে করেন। লাব্বি নামে তার দু’বছরের একটি ফুটফুটে সন্তান আছে। কিন্তু আগুন এভাবে তার বোনের সংসার তছনছ হয়ে যাবে বলতেই তার দুটি চোখ জলে ভরে উঠে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন ৭২ পূর্ব তেজতুরী বাজারের মাহফুজ সুইং অ্যান্ড ইলেট্রিক দোকানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। দোকান মালিক, কর্মচারী ও ভ্যানচালকসহ ১১ জন গুরুতর দগ্ধ হলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। এদিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের পারফিউম তৈরির কারখানায় কন্টেইনার বিস্ফোরণে দগ্ধ মফিজুর রহমান মফিজ (৪০) গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। গত ২রা এপ্রিল চকবাজারের হাবিবল্লাহ রোডের ছোটকাটরায় পাঁচতলা ভবনের তারা সেন্টারের পারফিউম কারখানায় বিকালে আগুন লাগে। এ সময় মফিজসহ তিন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হন। মফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কাচিয়ারী। তার পিতার নাম ফজল গনি।
No comments:
Post a Comment