Wednesday, April 23, 2014

বরগুনায় এসপিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

ঘুষ দাবি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে বরগুনার পুলিশ সুপারসহ (এসপি) পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারিক হাকিম মঈনুদ্দিন নোমান মামলাটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। পুলিশের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাঁরা হলেন পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, সদর থানার ওসি (তদন্ত) পুলক চন্দ্র রায়, উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) জাফর হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাদল মৃধা। 
মামলার আরজিতে বাদী মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করেন, পুলিশ সুপার ও ওসি (তদন্ত) কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁর ভাই, ভাগনেসহ আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ১০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মারধর ও হাজতবাসে বাধ্য করা হয়েছে। আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৪ মার্চ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মোখলেসুর রহমানের ছোট ভাই রেজাউল করিমকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে জেলহাজতে পাঠায় অভিযুক্তরা। ১৪ দিন হাজতবাসের পর আদালত থেকে ৯ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে আলাদাভাবে মামলাগুলোতে জামিনে মুক্তি পান রেজাউল করিম। এসব মামলায় তদবির করার অভিযোগ এনে তাঁকে (মোখলেসুর রহমান) ও তাঁর ভাই নিজাম উদ্দিনকে ২৯ মার্চ বিকেল চারটার দিকে বাড়ি থেকে আটক করা হয় এবং কোমরে রশি বেঁধে মারধর করতে করতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভুয়া বাদী সাজিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় তাঁদের দুজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ওই মামলায় জামিনের আবেদন করলে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ৯ এপ্রিল তাঁদের জামিন দেন এবং মামলার বাদীকে আদালতে হাজির করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তবে বাদীকে হাজির করতে না পেরেও পুলিশ ওই দুজনের বিরুদ্ধে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করেন, ৩১ মার্চ আরেকটি মামলায় তাঁর আরেক ভাই রেজাউল করিম, ভগ্নিপতি মো. শাহজাহান, ভাগনে আল আমিন, ফুফাতো ভাই আক্কাস হোসেন ও ভাইয়ের ছেলে ইমরান হোসেনকে আসামি করে হয়রানি করা হয়। এভাবে তাঁর (মোখলেসুর রহমান) ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ১০টি মামলা করা হয়। এসব মামলার ফিরিস্তি আদালতে পেশ করেছেন মোখলেসুর রহমান। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এটি হয়েছে। বিষয়টি আমরা নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছি।

No comments:

Post a Comment