Tuesday, May 13, 2014

র‍্যাব সংস্কারে কতটা আগ্রহী সরকার?

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী র‍্যাবের কজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগের পর প্রধান বিরোধীদল বিএনপির পক্ষ থেকে র‍্যাব বিলুপ্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা এমনই দাবি তুলছেন।অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় এই বিশেষ বাহিনীর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
দাবি উঠছে এই বাহিনীটি সংস্কারের। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালে গঠন করা বিশেষ বাহিনী র‍্যাব নিয়ে এখন বিএনপির নেতারাই বলছেন, অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে র‍্যাব গঠন করা হলেও এখন এই বাহিনীটির কর্মকান্ড বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। একসময় জঙ্গিবাদ দমনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ দক্ষতার সাথে করলেও মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে এই বাহিনীর অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “মূল বিষয়টা হলো তাদের প্রয়োজনীয়তা কেন হয়েছিল? মানুষের জীবন রক্ষা করা, সন্ত্রাস দমন করা। সেই প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে তারা যদি না পারে এবং তাদের কর্মকর্তারা যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে অভিযোগ তো মারাত্মক অভিযোগ। টাকা নিয়ে মানুষকে হত্যাসহ যে অভিযোগ উঠে আসছে, তুলে নিয়ে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে, কখনো ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, কখনো মেরে ফেলা হচ্ছে এসব অভিযোগও উঠে আসছে। পুলিশ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হলেও শুরু থেকেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বা তাদের ভাষায় বন্দুকযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের এবং আন্তর্জাতিক একাধিক মানবাধিকার সংগঠন বাহিনীটির সমালোচনা করে আসছে। তবে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে একসঙ্গে সাত ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় র‍্যাবের কয়েকজনের জড়িত থাকার অভিযোগের পর এই বাহিনীটির বিলূপ্তি ও সংস্কার নিয়ে জোরালো বক্তব্য আসছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী সুলতানা কামাল বলেন, আজ এই বাহিনীটির এই অবস্থায় এসে দাঁড়ানোর কারণ “এর কর্মকান্ডের ওপর কোনও ধরনের জবাবদিহিতা না থাকা এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা। এক্ষেত্রে কোনও সরকারই উদ্যোগ নেয়নি।” তিনি জানান, মানবাধিকার সংক্রান্ত গবেষণা করতে গিয়ে এই বিশেষ বাহিনীটির নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ছাড়া আরও অনেক অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের বিলূ্প্তির এই দাবিকে কতটা গুরুত্ত্ব দিচ্ছে সরকার? আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বলেন, “বিলূপ্তির বিষয়ে কোনও চিন্তাভাবনা সরকারের নেই। তবে সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে। র‍্যাব সম্পর্কে এখন অনেক কথা উঠলেও তাদের বড় বড় অনেক সাফল্যও আছে। র‍্যাবকে এখনো সাধারণ মানুষ চায়। মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলার ব্যাপার নয়। র‍্যাবের সংস্কার করা যেতে পারে। নিয়ম নীতি বা শৃংক্ষলা আরও কঠোর করা যেতে পারে।” র‍্যাবকে বর্তমান সরকার রাজনৈতিক কারণেও ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদলের। রাজনৈতিক কারণে কোনও সরকারই বিশেষ এই বাহিনীটির কর্মকান্ড নিয়ে সরব হয়না বলেও অভিযোগ মানবাধিকার কর্মীদের। সুলতানা কামাল বলছেন, এটি বিলু্প্ত করা বা সংস্কার পুরোটাই রাজনৈতিক ইচ্ছের ব্যাপার।

No comments:

Post a Comment