এবার বিশ্বকাপ ব্রাজিলে। হেক্সা মিশনে
মরিয়া স্বাগতিকরাই অন্যতম ফেভারিট। এছাড়া স্পেন, আর্জেন্টিনা ও জার্মানিও
আবার চ্যাম্পিয়ন হতে মুখিয়ে আছে। তবে ক্রিকেটের মতো অনিশ্চয়তা ফুটবলে না
থাকলেও এবার অঘটন ঘটানোর মতো সামর্থ্য আছে কয়েকটি দলের।

ফেভারিট
না হলেও অঘটনের জন্ম দিয়ে তারা উঠতে চায় নক আউট পর্বে। এবার কয়েকটি দলকে
ওভাবেই হাতে গোনা হচ্ছে, যারা দুই একটি ফেভারিট দলকে হতাশ করার সামর্থ্য
রাখে। নিজেদের দিনে বড় বড় দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতোই ক্ষমতা
পর্তুগাল, ইতালি, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের। যদিও ধারাবাহিক পারফরমেন্স করার
মতো প্রতিভা এই দলগুলোয় নেই, তবুও ভক্তদের চমক দেখানোর অপেক্ষায় তারা।
ফুটবলে সাম্বা ব্র্যান্ড দিয়ে ইউরোপের ব্রাজিল খ্যাতি পাওয়া পর্তুগালের
কথাই ধরা যাক। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সঙ্গে একই গ্রুপে।
সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বিবেচনায় জার্মানদের সঙ্গে তাদের শেষ ষোলোয়
প্রত্যাশা করা যেতে পারে। বেশ কয়েকবারই দলটি গ্রুপ পর্ব পেরুতে পারলেও
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বেলায় হতাশ হয়েছে। এছাড়া বড় টুর্নামেন্ট এলেই তার
টিকিট নিশ্চিত করতে হয় প্লে অফ খেলে- যেমনটা হয়েছিল ইউরো ২০১২ ও বিশ্বকাপ
২০১৪। ব্রাজিলের টিকিট পেতে তাদের দুই লেগে সুইডিশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে
হয়েছে। ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার জিতে গেছেন
সুইডেনের সুপার স্টার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে। আর
পর্তুগালের সাফল্য যে রোনালদো ও তার পায়ের উপরই নির্ভর করছে বলার অপেক্ষা
রাখে না। অনেক খেলোয়াড়ই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে খেলতে এলেও রোনালদোর এটি
তৃতীয়। বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ধীরে শুরু হলেও পর্তুগালের র্যাঙ্কিং এখন চার
নম্বরে। গত এক যুগে দলটি অনেক প্রতিভার খোঁজ পেয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত
এই সময়ের মধ্যে কোনো বড় টুর্নামেন্ট শিরোপা জেতেনি তারা। পর্তুগাল এবার
অবশ্য ঘরের মতো করেই সমর্থন পাবে বলা চলে। কারণ, ব্রাজিল ও পর্তুগাল কথা
বলে একই ভাষায়। রোনালদোর কথা নতুনভাবে না বললেও চলে। ম্যানচেস্টার
ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে যেদিন দিয়েছেন সেদিন থেকেই বিশ্বকে কাঁপাচ্ছেন।
মেসি না পারলেও, রোনালদো নিজ দেশের হয়ে অসাধারণ ফর্ম দেখিয়ে সমালোচকদের
মুখে কুলুপ এটে দিয়েছেন। কিন্তু একটা জায়গায় কথা থেকে যায়, বিশ্বের বড় বড়
দলগুলোকে ভড়কে দেওয়ার মতো সতীর্থ কী মাঠে আছে রিয়াল মাদ্রিদ তারকার জন্য?
আক্রমণভাগে হেল্ডার পোস্তিগা বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে ছয় গোল করলেও নিজেকে
রঙিন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি হুগো আলমেইদাও নিয়মিত নয় গোলমুখের সামনে।
তবে মধ্যমাঠের সতীর্থদের কাছ থেকে রোনালদো ভালো সহায়তা পাবেন বলেই মনে করা
হচ্ছে। সেটা যদি না হয় তবে নিজস্ব কৌশল ও শক্তি দিয়েই প্রতিপক্ষকে কাবু
করতে হবে তাকে। আক্রমণভাগ শুধুমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নির্ভর হলেও
মিডফিল্ড প্রশংসনীয়। পর্তুগালের এই বিভাগটি বেশ শক্ত ও মানসম্পন্ন। বল
দখলের লড়াইয়ে মিগুয়েল ভেলোসো, জোয়াও মর্টনো ও রাউল মেরিলেস যে কোনো
প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। স্পোর্টিং লিসবনের রুই প্যাট্রিসিও
গোলবারের নিচে দুর্ভেদ্যর প্রতীক হয়ে থাকবেন। ডিফেন্সকে নিশ্ছিদ্র রাখতে
আছেন পেপে। আর ফ্যাবিও কোয়েন্ত্রাও, ন্যানি, ড্যানি ও সিলভেস্টার ভারেলাকে
বিশ্বকাপ দলে নেওয়া হলে ২০১০ সালের চেয়ে উন্নত পারফরমেন্স দেখাতে পারবে
পর্তুগাল। অবশ্য কোচ পাউলো বেন্তোকে এগুতে হবে ধাপে ধাপে। আগে দলকে নকআউট
পর্বে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা, এরপর আরও দূর এগুনোর পরিকল্পনা করতে পারেন তিনি।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা পারফরমেন্স ছিল ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে।
সর্বকালের সেরা খ্যাতি পাওয়া ইউসেবিও তার গোল করার দক্ষতা দেখিয়ে বিশ্বকে
তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। স্বাগতিকদের কাছে হেরে ফাইনালে যাওয়া না হলেও তৃতীয়
স্থানের মর্যাদা পেয়েছিল তারা। আর ২০০৬ সালে জার্মানিতে চতুর্থ স্থানে থেকে
শেষ করেছিল দলটি। বলা যায়, নিজ বাহিনীর কাছে যথেষ্ট সমর্থনে ম্যারাডোনার
মতো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যদি একাই জ্বলে ওঠে, আর পর্তুগাল শিরোপাও জিতে
তবে কেউই আশ্চর্য হবে না। (চলবে........)
No comments:
Post a Comment