Monday, May 19, 2014

কক্সবাজারে পুলিশ-সন্ত্রাসী ‘বন্দুকযুদ্ধ’ মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারে ৯ দিন আগে নিখোঁজ আজিজুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহের সন্ধানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়েছে। টানা একঘণ্টা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শেষে মাটিতে পুঁতে রাখা ওই ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া গেছে। ওই সময় ৪ জন সন্ত্রাসীকে আটক ও দুই দেশে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৪ পুলিশ সদস্যও ওই সময় আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার ভোর রাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ছত্রঘোনা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পুলিশের বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’র কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং রোববার সকালে গিয়ে পুলিশের একজন সদস্য এক রাউন্ড গুলি করেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, গত ১০ মে রাত ১০টার দিকে পাহাড়তলি এলাকার বাড়ি থেকে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান (২৫)। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, পাহাড়তলির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানায় ওই ব্যবসায়ীকে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ওই সংবাদের ভিত্তিতেই তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার ভোররাতে ওই এলাকায় অভিযান চালান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। তিনি দাবি করেন, কথিত এই বন্দুকযুদ্ধে তিনিসহ পুলিশের ৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন। ৪ জন সন্ত্রাসীকেও আটক করা হয়। এই সময়ে দুইপক্ষে ৪০ রাউন্ডের মতো গুলিবিনিময় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওসি মাহফুজ জানান, বন্দুকযুদ্ধের পর গোপন সংবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ওই সময় এক জায়গায় মাটি নরম পাওয়া যায়। পরে ওই এলাকার মাটি খুঁড়ে আজিজুর রহমান নামের ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’র কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং রোববার সকালে গিয়ে পুলিশের একজন সদস্য এক রাউন্ড গুলি করেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শীরা। ওই প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ শনিবার বিকালেই সন্ত্রাসী মুবিন ও নিখিলকে আটক করেছিল। তাদের আটকের পর রোববার সকালে নিখোঁজ আজিজুর রহমানের লাশের সন্ধানে অভিযানে গিয়েছিল পুলিশ।
তাদের দাবি, আজিজুর রহমানকে ব্যবসায়ী বলা হলেও তিনিও ছিলেন মূলত একজন সন্ত্রাসী।

No comments:

Post a Comment