Tuesday, May 6, 2014

সিসি ফিলার ও এটি তৈরির কাঁচামালের একই শুল্ক!

প্লাস্টিকের বস্তা (ওভেন স্যাক ব্যাগ) তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো সিসি ফিলার৷ ১০ শতাংশ শুল্কে সম্পূর্ণ তৈরি এই উপকরণ আমদানি করা যায়৷ আবার এই সিসি ফিলার তৈরির কাঁচামাল কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানির শুল্কহারও ১০ শতাংশ৷ এতে বিপাকে পড়েছে সিসি ফিলার উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো৷ এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামাল আর তৈরি পণ্যে একই শুল্কহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ 
এর কারণে দেশীয় প্লাস্টিকের বস্তা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে সিসি ফিলার আমদানি করে ব্যবহার করছে৷ অন্যদিকে, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এই উপকরণ তৈরিতে বেশি খরচ লাগছে৷ এভাবে শুল্ক-বৈষম্যের প্রভাবে এ খাতের স্থানীয় উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন৷ উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশে তৈরি সিসি ফিলারের মান ভালো৷ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে উৎপাদন সক্ষমতা আছে, তা দিয়ে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে এই উপকরণ রপ্তানি করাও সম্ভব৷ এ জন্য সরকারের নীতি-সহায়তা প্রয়োজন৷ সরকার যদি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দেয়, তাহলে উপকরণটি তৈরিতে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে৷ এখন উপকরণটি আমদানি হচ্ছে, তখন রপ্তানিও হবে৷ এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্লাস্টিক ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, কাঁচামাল আর তৈরি পণ্যের শুল্ক তো এক হতে পারে না৷ এমন বৈষম্য সরকারের দূর করা উচিত৷
জানা গেছে, দেশে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিসি ফিলার তৈরি করছে৷ দেশে সিসি ফিলারের চাহিদা বছরে তিন হাজার টন৷ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ছয় হাজার টন৷ তবে সিসি ফিলার আমদানি হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী উপকরণটি উৎপাদনে যেতে পারছে না উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো৷ একজন উদ্যোক্তা প্রথম আলোকে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা থাকার পরও স্থানীয় চাহিদা কম হওয়ায় এক হাজার টনের বেশি উৎপাদনে যেতে পারছেন না তিনি৷ বর্তমানে ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে সিসি ফিলার আমদানি হয়৷ অন্যদিকে, এই উপকরণ তৈরিতে ব্যবহূত হওয়া কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানি হয় ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে৷ সিসি ফিলার ও এটি তৈরির কাঁচামাল কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানিতে শুল্ক একই থাকায় দেশীয় বস্তা প্রস্ততকারকেরা বিদেশ থেকে সিসি ফিলার আমদানি করেই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন৷ অথচ দেশে তৈরি সিসি ফিলারের মান ভালো৷ এটি রপ্তানি করাও সম্ভব৷ কিন্তু কাঁচা-মালের শুল্ক বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছে উপকরণটি৷ তাই রপ্তানিও করা যাচ্ছে না৷ একজন উদ্যোক্তা জানান, তাঁর কাছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ইথিওপিয়া ও পাকিস্তান থেকে সিসি ফিলারের রপ্তানি আদেশ এসেছিল৷ কিন্তু মূল্য প্রতিযোগীসক্ষম না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি রপ্তানি করতে পারেননি৷ সিসি ফিলারের সম্ভাবনা বিবেচনায় এখন উদ্যোক্তাদের চাওয়া, উপকরণটি তৈরিতে ব্যবহূত কোটেড ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানিতে শূন্য শুল্ক আরোপ করা হোক৷ তাও সম্ভব না হলে অন্তত এর শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হোক। অন্যদিকে, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার স্বার্থে সম্পূর্ণ তৈরি সিসি ফিলারের আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার দাবিও রয়েছে তাঁদের৷

No comments:

Post a Comment