পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় নিহত দম্পতির একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমান ও তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। অন্য দুই অভিযুক্ত হচ্ছেন ঐশীর বন্ধু জনি ও রনি।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হক এ চার্জ গঠন করেন। আগামী ৫ জুন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করা হয়েছে। অপর আসামি গৃহকর্মী সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মামলাটি শিশু আদালতে বদলি করা হয়েছে। গত ৯ মার্চ ডিবির ইন্সপেক্টর আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ঐশীসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দু’টি চার্জশিট দাখিল করেন। ঐশীর সঙ্গে একটি চার্জশিটভূক্ত অপর আসামিরা হলেন, ঐশীর বন্ধু জনি ও রনি। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে নিহত দম্পতির বাসার গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে আসামি করে অন্য চার্জশিটটি দাখিল করা হয়। সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আলাদা চার্জশিট হয় এবং তার আলাদা বিচার হবে শিশু আদালতে। ৮ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসান চার্জশিট দু’টি গ্রহণ করেন। চার্জশিট গ্রহণ করার পর ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ ঐশীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিটটি বিচারের জন্য রেখে সুমির বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট জুভেনাইল কোর্টে (শিশু আদালত) পাঠান। গত বছরের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী গৃহকর্মী সুমীকে নিয়ে রমনা থানায় আত্মসমর্পণ করে। গত বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে ঐশী জবানবন্দি দেয়। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল দাবি করে ৫ সেপ্টেম্বর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। আদালত তা নথিভূক্ত রাখার নির্দেশ দেন।
No comments:
Post a Comment