গোপালগঞ্জের আলোচিত ফোর মার্ডার মামলার
প্রধান আসামি আজাদ মোল্লা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
দিয়েছে। বলেছে কেন এবং কিভাবে তিন শিশুসহ চারজনকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে
মেরেছে।

সোমবার
বিকালে গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তামান্নার কাছে
দেয়া জবানবন্দির সময় আজাদ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। খুব ঠা-া মাথায় এ
রোমহর্ষক ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করে বলে ২০ বছর আগে সদর থানার ডুমদিয়া
গ্রামের দেলোয়ার গাজীর মেয়ে শরিফাকে আমি বিয়ে করি। বিয়ের পর তাকে আমি খুব
বেশি ভালোবাসি। পর্যায়ক্রমে আমাদের ঘরে জন্ম নেয় চারটি সন্তান। বেশি
ভালোবাসি আমার এই দুর্বলতার সুযোগে আমার স্ত্রী শরিফা শাশুড়ির সহযোগিতায়
একাধিক পুরুষের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশায় জড়িয়ে পড়ে। বুঝতে পেরে নিজের
মানসম্মান রক্ষার জন্য অন্য কাউকে বুঝতে না দিয়ে স্ত্রীকে সংশোধন হওয়ার
জন্য বলি। কিন্তু আমার বউ সংশোধন হওয়ার চেষ্টাও করেনি এবং হয়নি। এরপর আমি
শাশুড়ি ফুরিয়া বেগমকে ঘটনার বিস্তারিত বলি। প্রতি উত্তরে শাশুড়ি আমাকে বলে
যে, এমন কাজ আমার মেয়ে কোনদিনও করতে পারে না বরং তুমি ভাল হয়ে যাও। শেষ
চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত শনিবার বিকালে আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে আমার
ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসি এবং স্ত্রীকে বলে আসি তোকে এবং তোর মাকে আগুন দিয়ে
পুড়িয়ে মারবো। ছেলেমেয়েদের বাড়িতে রেখে সন্ধ্যায় মানিকহার বাজারে আসি। এরপর
সেখান থেকে ৯০ টাকা দিয়ে এক লিটার কেরোসিন কিনে বউকে ফোন করি এবং বলি আজ
রাতেই তোদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে তোকে আর তোর মাকে মেরে ফেলবো। আনুমানিক রাত
১১টার পর আমি কেরোসিন নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাই। তখন সবাই ঘুমে। শাশুড়ি এবং
আমার স্ত্রী যে খাটে ঘুমায় সেই খাটের মশারিতে জানালার ফাঁক দিয়ে কেরোসিন
ছুড়ে মারি। এরপর ঘরের দরজার শিকল বন্ধ করে দিয়ে ঘরের চারপাশে কেরোসিন ঢেলে
দেই। তারপর জানালার ফাঁক দিয়ে ম্যাচকাঠি জ্বালিয়ে মশারি লক্ষ্য করে আগুন
ছুড়ে মারলে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এরপর আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
ঘণ্টাখানেক পরে জানতে পারি শাশুড়ির খাটে স্ত্রী না থাকায় সে মরেনি। এ খবর
শুনে খুব বেশি কষ্ট পেয়েছি। স্ত্রীর মরণের খবর শুনলে খুব ভালো লাগতো। তবে
আমার দেয়া আগুনে পুড়ে শাশুড়ির মরণের খবর শুনে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া
আদায় করেছি কিন্তু তিন শিশু মরে যাওয়ায় চোখের পানি ফেলেছি এবং অনুতপ্ত
হয়েছি। গোপালগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন মোল্লা এবং এ মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেছেন- মর্মান্তিক এ ঘটনার পেছনে সহযোগী হিসেবে
আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment