টঙ্গীতে সেনাবাহিনীর মালবাহী গাড়ি আটক
করায় সেনাবাহিনী ও টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ
সময় সেনাবাহিনীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জেলা পুলিশ
সুপারের নির্দেশে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মো. আব্বাস আলী কোং নং-৮০৮ ও মো. বাবর আলী
কোং নং-৯৬৪। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় সাভার ক্যান্টনমেন্ট থেকে একটি গাড়ি বহর
খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্টে সেনা সদস্যদের মালামাল নিয়ে যাওয়ার পথে টঙ্গীর
আমতলী এলাকায় টহলরত টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের পিকআপভ্যানের সঙ্গে হালকা
ধাক্কা লাগে। এ সময় টহলরত পুলিশের এএসআই আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে ২ পুলিশ
কনস্টেবল মো. আব্বাস আলী কোং নং-৮০৮ ও মো. বাবর আলী কোং নং-৯৬৪ ধাওয়া করে
টিঅ্যান্ডটি বাজারে গিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়িটি (পিকআপভ্যানটি) গতিরোধ করে
এবং গাড়িতে সাদা পোশাকে থাকা সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো.
শাহাদৎ হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে
মারধর করে। পুলিশের গাড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে খবর
পেয়ে পোশাকধারী একদল সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায়
ওই ২ পুলিশ সদস্যকে আটকপূর্বক বেধড়ক মারধর করতে থাকলে স্থানীয় সরকারদলীয়
একজন প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে এবং টঙ্গী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ
মো. ইসমাইল হোসেনের উপস্থিতিতে সেনা সদস্যরা শান্ত হন। বিষয়টি জানতে পেরে
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবদুল বাতেনের নির্দেশে অভিযুক্ত ২ কনস্টেবলকে
জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। টঙ্গী মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো.
ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সেনা
সদস্যদের হাতাহাতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার
করি। পরে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানালে, তিনি ২ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করেন।
৫০ হাজার টাকা চাঁদার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এএসআই আনোয়ার হোসেনের
বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে
কর্তব্যে অবহেলার কারণে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment