কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সৎমায়ের বিষ
মেশানো কোমলপানীয় পানে আফসানা খাতুন (১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে নিশ্চিন্তবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত
থাকার অভিযোগে কাজলী খাতুন (২৩), তৃষ্ণা ও মুনিরা নামে তিনজনকে আটক করেছে
পুলিশ।

পুলিশ
ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নিশ্চিন্তবাড়িয়া গ্রামে আসাদ মুন্সীর দুই
স্ত্রী কাজলী খাতুন (২৩) ও সীমা খাতুন (২০)। তারা একই গ্রামে পৃথক দুই
বাড়িতে বসবাস করেন। সংসারে কাজলীর এক ছেলে ও সীমার এক মেয়ে। এক বছর বয়সী
মেয়েটির নাম আফসানা। তৃষ্ণা ও মুনিরার বরাত দিয়ে খোকসা থানার উপ-পরিদর্শক
(এসআই) কার্তিক দাশ জানান, দুপুরে কাজলী তার বান্ধবী তৃষ্ণা ও মুনিরাকে
দিয়ে দু’টি কোমলপানীর বোতল সীমার কাছে পাঠায়। পরে সীমার মেয়ে আফসানা
কোমলপানীয় দেখে খাওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে সীমা একটি
বোতল খুলে আফসানাকে খাওয়ায়। বোতলে থাকা বাকি অংশ সীমার আড়াই বছরে ছোট ভাই
শামীমসহ নিজেও পান করার কিছুক্ষণ পর আফসানার বমি শুরু হয়। এ সময় তাকে দ্রুত
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সীমা খাতুন ও শামীম
অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আফসানার অবস্থা আরো খারাপ
হলে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাতপাতালে নেওয়ার
সময় পথেই মৃত্যু হয় আফসানার। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক
অনামিকা অধিকারী বলেন, অসুস্থ দু’জনের চিকিৎসা চলছে। তারা আশঙ্কামুক্ত। তবে
খাদ্যে বিষক্রিয়া না অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এ মুহূর্তে বলতে
পারছি না। তবে শিশুটির শ্বাসকষ্ট ছিল বলেও জেনেছি। শিশুটির বাবা আসাদ
মুন্সী বলেন, বড় বউ ছোট বউয়ের প্রতি একটু ঈর্ষান্বিত ছিল। তবে পুরো ঘটনায়
তিনি হতবাক। উপ-পরিদর্শক আরো বলেন, কাজলী কোমলপানীয় বোতলে বিষ মিশিয়ে ছিল
বলে মুনিরা স্বীকার করেছে। এছাড়া সংগ্রহ করা বোতলটিতে বিষের গন্ধ রয়েছে।
No comments:
Post a Comment