Sunday, May 4, 2014

পুলিশ দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে: খালেদা

জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই অবৈধ সরকার পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। ৠাবকে কাজ করতে দিচ্ছে না। এই দুই জায়গাতেই একটি বিশেষ জেলার লোকজন বসে আছে। ফলে কোন কাজ হচ্ছে না। বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে দলটির ডাকা গণঅনশন কর্মসূচিতে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, আজকে একটি বিশেষ জেলার পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এদের দিকে নজর রাখবেন।
 এই আওয়ামী সরকার চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না। এই সরকার একদিন যাবে, তখন আপনারা কোথায় যাবেন। আপনাদেরকে এরজন্য জবাবদিহিতা করতে হবে। আজকে জনগণের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস কর দেওয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়া এ সময় বলেন, বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। যদি আইন না থাকে তাহলে গণতন্ত্র থাকতে পারে না। এ সময় তিনি গুম-খুনের সমালোচনা করে বলেন, আজ বাংলাদেশ আজ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, গুম-খুনের বিরুদ্ধে আজ নারায়ণগঞ্জে হরতাল হয়েছে। আমরা এই সরকারের কাছে জানতে চাই কারা এটা করছে। এই যে খুন করে নদীতে লাশ ফেলা হলো, কয়েকদিন পর নদীতে তাদের লাশ ফেলে দেওয়া হচ্ছে। “এটা শুধু নারায়ণগঞ্জেই ঘটছে না, গুম-খুনের পর রাজশাহী, চাঁদপুর, বগুড়া, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরে, নীলফামারিতে লাশ পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশ আজকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।” তিনি প্রশ্ন করেন, কারা এসব করছে? কার সঙ্গে এরা জড়িত? কাউকে ধরা হচ্ছে, কারণ এরা সবাই এই অবৈধ সরকারের লোক। অথচ যাদের পরিবারের সদস্যরা গুম-খুন হচ্ছে তাদের বাবা-মায়ের কান্না এদের বুকে মায়া লাগায় না। এইভাবে একটা দেশ চলতে পারে না, বলেন বিএনপি নেত্রী। অব্যাহত খুন, গুম অপহরণ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর আগে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রেসক্লাবে সংহতি জানাতে আসেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সারাদেশে গণঅনশনে বসেন দলীয় নেতাকর্মীরা। অনশন শুরুর পর বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ফুঁসে ওঠা মানুষদের ‘আই-ওয়াশ’ করতেই এতদিন পর অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে অনশন শুরুর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে নুর হোসেনের বাড়িতে অভিযান, কিন্তু এতদিন পরে কেন? তদন্তের নামে আই-ওয়াশ দিচ্ছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নির্দিষ্ট দল-মত নির্বিশেষে এই অবস্থা প্রতিহত করতে হবে। দেশে এখন এক ব্যাক্তির শাসন চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে হবে। কাউকে যেন গুম হতে না হয়, বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতে হবে।স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যদি এমন কথা বলেন, তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত কখনোই হতে পারে না। ফখরুল বলেন, গুম অপহরণে নাকি বিএনপির হাত আছে। বিএনপি তো ভিকটিম। বিএনপিকে নির্মূল করতেই তো এসব করছেন। ফখরুল অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকার আজ বিরোধীদল দমনে ব্যবহার করছে। প্রেসক্লাব মিলনায়তনের সামনে উত্তরমুখী অনশন মঞ্চে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, এমকে আনোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, শমসের মোবিন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন,  সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত আছেন। এছাড়া, মঞ্চের সামনে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদ বেগম হীরা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ প্রমুখ। কর্মসূচি পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম।

No comments:

Post a Comment