Tuesday, May 13, 2014

চাকরিচ্যুত ৩ র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার প্রক্রিয়াধীন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় চাকরিচ্যুত তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তারা হলেন, র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানা। হাইকোর্ট থেকে এ তিনজনকে গ্রেফতারের আদেশের কপি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে এসে পৌঁছালেও মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান নারায়ণগঞ্জের  পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। 
মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, তিনজনকে গ্রেফতারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামসহ তার পরিবারের অভিযোগ, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে ওই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন নূর হোসেন। এ অভিযোগের পর গত ৬ মে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, সাবেক অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। গত রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আইজিপিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দণ্ডবিধি বা বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে বলেন আদালত। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতি অথবা আপিল বিভাগের বর্তমান একজন বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনের শুনানি শেষ হয় রোববার। এরপর এ আদেশ দেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। রোববার সকালে রিট আবেদনটি দায়ের করেন নিহত আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সেভেন মার্ডারের ঘটনায় সরকার ও র‌্যাবকে দায়ী করেছেন। তিনি র‌্যাবের বিলুপ্তিও চেয়েছেন। ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment