বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, শুধু তিস্তা ইস্যুতে জামায়াতকে ছেড়ে আন্দোলন
চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজকে আহ্বান জানালে পাশে পাবেন। সোমবার
বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি আয়োজিত ‘দ্য স্টেট অব
তিস্তা: দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভদ্রতার লেবাসে কোনো দাবি আদায় হবে না মন্তব্য করে মান্না বলেন, বিএনপি
লংমার্চ করে রাজনৈতিক সুবিধা নিলেও এটা জাতির জন্য দরকার ছিল। আওয়ামী লীগের
পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা না করে সহযোগিতা করলে আমাদের জাতীয় ঐক্যমতের
প্রতিফলন ঘটতো। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সেটা না করে এটাকে ভারত বিরোধিতা হিসেবে
চালিয়েছে।

তিনি
বলেন, না চাইতেই ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে দেওয়া হয়, নদীতে বাঁধ দিতে দেওয়া
হয়। কিন্তু এর মাশুল কী হবে, তা একবারও ভাবে না সরকার। আলোচনা সভায় ‘সাহারা
মরুভূমির পথে বাংলাদেশ: জাতিসংঘের ষষ্ঠ কমিটির মাধ্যমে বেসিন ভিত্তিক
পানির সুষম বণ্টন চাই’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধে জাতিসংঘের সাবেক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ
ড. এস আই খান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু পানির ওপর সার্বভৌমত্ব
পায়নি। এ কারণে দেশের একটি বিশাল অংশ মরুভূমিতে রূপান্তরের দিকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তার পানি পেতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে তিনমাসের
আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত। বলা উচিত, এর মধ্যে পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে
আমরা জাতিসংঘের ষষ্ঠ কমিটিতে যাবো। মান্না বলেন, ৫ জানুয়ারির কথিত
নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে সরকার। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার
কথা বলে গণতন্ত্রকে চিবিয়ে খাচ্ছে। এদের মুখে নীতিকথা মানায় না। সুরঞ্জিত
সেনগুপ্তের কড়া সমালোচনা করে মান্না বলেন, তিস্তার পানির দাবিতে বিএনপি
মিছিল করতে চাইলে আপনি বলেছেন, এটা ভারত বিরোধী আন্দোলন। কিন্তু, তিস্তার
পানির বিষয়ে কথা না বলে আপনি ভারতপ্রীতি দেখাচ্ছেন। ঢাকায় বসে আছেন কেন?
আপনি কলকতায় বা দিল্লিতে যান। সেখানে বেশি বাহবা পাবেন। গণস্বাস্থ্য
কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ভারত যেভাবে ইচ্ছা
সেভাবে পানি নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, বাংলাদেশ সরকারের নতজানু অবস্থার কারণে
কোনো প্রতিবাদ করা হচ্ছে না। আন্দোলনের প্রয়োজনে প্রতি মাসে ভারতীয়
দূতাবাসমুখী কর্মসূচি দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক
ফারাক্কা কমিটির সমন্বয়ক মোস্তফা কামাল মজুমদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, বুয়েটের
পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা খান, কমিটির
সচিব ইরফানুল বারী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
No comments:
Post a Comment