খবর বেরুচ্ছে টিঅ্যান্ডটি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ
সিদ্দিকীর সাবেক মন্ত্রণালয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে নিয়ে। এ নিয়ে ডাক,
তার ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
নিজেদের চাকরির চিন্তায় মন্ত্রণালয় দু’টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অস্থির সময়
পার করছেন। তারা বলছেন, মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি। তার
আদেশ-নির্দেশ পালন না করলে চাকরি জীবনের পদে পদে হেনস্তা হতে হয়। বর্তমান
সময়ে পালন না করলে আরও বিপদ। কপালে জামায়াত-শিবিরের তকমাসহ বিভিন্ন কথা
সহ্য করতে হয়। বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নানাভাবে নাজেহাল হতে হয়।
টিঅ্যান্ডটি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কথা বলে জানা গেছে,
মন্ত্রণালয় দু’টিতে এখন ‘চট্টলার পানি পান করেছি’ এবং ‘বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ
করো নীতিমালা’- বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রণালয়ের এক
কর্মকর্তা জানালেন, মন্ত্রণালয়ে অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন
মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভয়-ভীতির জন্ম দিয়েছেন। এছাড়া, জমির
টেলিকম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ মানা না মানা নিয়ে নানা কথা ছড়াচ্ছে
মন্ত্রণালয়টিতে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব নেয়ার দেড় মাসের মাথায় লতিফ সিদ্দিকী কয়েকবার মৌখিকভাবে বিটিসিএলের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমানকে জমির টেলিকমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে
বলেন। পরে এক পর্যায়ে গত ২০শে মার্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করেই লিখিত
নির্দেশ দেন তিনি। লিখিত ওই নির্দেশনামায় লতিফ সিদ্দিকী লেখেন, বেলা ১-১২
মিনেটের সময় টেলিফোনিক আদেশ দেয়ার পর বিটিসিএল-এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা
পরিচালক ৬-৫০ মিনিটের সময় সংসদ কার্যালয়ে হাজির হয়ে জানান, আদেশ কার্যকর
করা সম্ভব নয়। মহামান্য হাইকোর্ট এ ব্যাপারে মামলা নিষ্পন্ন না হওয়া
পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন। শুনে নিজ দায়িত্বে আদালত
অবমাননার দায় মাথায় নিয়ে নির্দেশ দিচ্ছি এই মুহূর্তে জমির টেলিকম বন্ধ
করতে। এদিকে নতুন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর জমির টেলিকম আবারও আদালতে
যায় এবং কেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অবৈধ হবে না তা জানতে বিটিসিএলকে
নোটিশ জারি করে আদালত। এ সব বিষয় নিয়ে সমপ্রতি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ এবং
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা হয়।
সেখানেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সব জেনে বুঝেই তিনি এই নির্দেশনা
দিয়েছেন। কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন,
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী কথা বলেছেন। তবে প্রথম বৈঠক হওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনায় যাননি। আদালতের আদেশ নিয়ে মন্ত্রীর এমন কা-ের মধ্যে
আমলারা আছেন ভয়ে। পাছে কোন বিপদে পড়েন তারা। এজন্য ধীরে সুস্থে এগোচ্ছেন।
ওদিকে মোবাইল ফোন অপারেটর সংস্থার কাছে অর্থ চাওয়া নিয়ে টিঅ্যান্ডটি
মন্ত্রণালয়ে নানা কথা চালু রয়েছে। সমপ্রতি টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রী এক
অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমি চাঁদা নিই। কারণ রাজনীতি করতে আমাকে চাঁদা নিতে হয়।
তবে কমিশন খাই না। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, আগামী ৭ই জুন টিঅ্যান্ডটি
মন্ত্রী সপরিবারে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভাতে যাচ্ছেন। বিদেশ সফর
সংক্রান্ত সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, স্ত্রী ও কন্যাকে নিজ খরচে
সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে নিয়ে যেতে চান তিনি। তাই দেশের হয়ে একটি
আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করার জন্য গেলেও সপরিবারে তার
বিদেশ সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment