Tuesday, May 6, 2014

মন্দা কাটিয়ে সাফল্যের ধারায় গ্রামীণফোন: বিবেক সুদ

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ২০১৩ সালের শেষ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে গ্রামীণফোন আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিবেক সুদ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব বিবরণী প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিবেক সুদ। বিবেক সুদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় ২০১৩-এর চতুর্থ প্রান্তিকের মন্দা কাটিয়ে এই প্রান্তিকে গ্রামীণফোন সাফল্যের ধারায় ফিরতে পেরেছে। আমরা এই গতি ধরে রাখতে এবং ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।’ বিবেক সুদ বলেন, ‘আমরা ৬৪টি জেলা শহরকে থ্রিজির আওতায় এনে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি। 
ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজ করতে আমাদের প্রচেষ্টার কারণে এই প্রান্তিকে ডাটা ব্যবহার বেড়েছে। সবার কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে সামাজিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য অটুট আছে।’  ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল প্রান্তিকে গ্রামীণফোন রাজস্ব আয় করেছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি টাকা, যা ২০১৩-এর একই সময়ের তুলনায় ৬.১ শতাংশ বেশি। ২০১৩-এর শেষ প্রান্তিকের তুলনায় এই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে  ২ দশমিক ৬ শতাংশ।  এ প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ১৫ লাখ ৭০ হাজার নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করেছে, যার ফলে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ। এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল মার্কেটে গ্রামীণফোনের অংশ দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ২ শতাংশ। এ প্রান্তিকে থ্রিজি  গ্রাহকের সংখ্যাও আশাব্যঞ্জকভাবে বেড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রামীণফোন এ প্রান্তিকে থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন, টুজির ধারণক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে ২৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে চালু হওয়ার পর থেকে কোম্পানির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। দেশের বৃহত্তম কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এই প্রান্তিকে সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট ও শুল্ক আকারে মোট এক হাজার ৭০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে । এতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গ্রামীণফোন গত ৯ এপ্রিল ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা করে। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক প্রতিবেদন এবং ১৪০ শতাংশ (৯০% অন্তবর্তী নগদ লভ্যাংশসহ) নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাধারী শতকরা ৯০ ভাগ শেয়ারহোল্ডার এজিএমের পরদিনই নগদ লভ্যাংশ পেয়ে গেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মঈনুর রহমান ভুঁইয়া এবং হেড অব পাবলিক রিলেশনস মো. হাসান।

No comments:

Post a Comment