Monday, May 26, 2014

ঢাকা-টোকিও’র চমৎকার সম্পর্ক লালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকায় দায়িত্ব পালন করে যাওয়া জাপানি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে চারদিনের টোকিও সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরের প্রথম দিনে গতকাল তিনি বাংলাদেশের ওই সব বন্ধুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সুসংহত করতে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বৈঠক শেষে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও জাপান এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যকার চমৎকার সম্পর্ক লালনের জন্য বন্ধু ও রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে  আপনাদের অবদান কখনও শোধ হবে না। আপনারা আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং আমাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশেষভাবে ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যকার সম্পর্ক সুসংহত করতে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী জাপানের শ্রদ্ধাভাজন বন্ধুদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। আকাসাকা প্যালেসে এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশের মহান বন্ধু এবং জাপানে বাংলা ভাষা, দর্শন ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রচারক প্রফেসর তুশোয়োশি নারা’র বিধবা স্ত্রী মিসেস নারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র আমন্ত্রণে গতকাল দুপুরে টোকিও পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর তাকাশি তুশোয়োশি নারা, তাকাশি হায়াকাওয়া ও জেনারেল ফুজিওয়ারা’র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘তারা চলে গেছেন, কিন্তু তারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে জাগ্রত থাকবেন এবং তাদের অবদান সবসময় বাংলাদেশের মানুষকে প্রেরণা যোগাবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের যে, আমি আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরেছি। এই সম্মিলন আমাকে ১৯৭১  সালে স্বাধীনতার জন্য আমাদের বীরোচিত সংগ্রামে শক্তি ও প্রেরণা যোগাতে আপনাদের ও আপনাদের পরিবারের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিদারুণ প্রয়োজনের সময় আপনাদের নিঃস্বার্থ ও আন্তরিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম যে ক’টি দেশ সফর করেন জাপান ছিল তার অন্যতম। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকারী জাপানের অনেক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর আলাপ-আলোচনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তিনি আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে বরদাশত না করা। এরই অংশ হিসেবে আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার করছি। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার স্বাধীনতার চেতনা এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বহুমত সহিষ্ণু সমাজ প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়  সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ করে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাপানকে আমাদের পাশে চাই- আমরা জাপানের সমর্থন চাই।’ বাংলাদেশকে জাপানের সার্বিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস এক ধাপ এগিয়ে নেবে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত অধ্যাপক নারা এবং অন্যান্য জাপানি প্রয়াত বন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা: এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোকিও পৌঁছলে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় বেলা ১টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) অবতরণ করে। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে আকাসাকা প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের পুরো সময়টি টোকিও’র মিনাটোয় অবস্থিত এ প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা মটো আকাসাকায় অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আকাসাকা প্রাসাদে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান শিজেউকি হিরোকি। হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাসাকা প্রাসাদে যাওয়ার পথে বিমানবন্দর সড়কের উভয়পাশে দু’দেশের জাতীয় পতাকা, ফেস্টুন ও ক্ষুদ্র পতাকা দিয়ে সাজিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত এবং ঢাকা-টোকিও’র মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে শুভ কামনা জানানো হয়। জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। গত ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর। টোকিও যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় দেড় ঘণ্টা যাত্রা বিরতি করেন।

No comments:

Post a Comment