একাত্তরের ২৪ মার্চের আগে যে সব বাংলাদেশি
ভারতে গিয়েছেন তাদের সকলকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করতে হবে। তাদের নাম
ভোটার তালিকাতেও তুলতে হবে। মেঘালয় হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে এই কথা
জানিয়েছে।

সম্প্রতি
ভারতের নির্বাচনী প্রচারে ১৯৪৭ সালের পরে আসা অনুপ্রবেশকারীদের
বাক্স-প্যাটরা নিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠনো হবে বলে নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং
জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয় হাইকোর্টের রায়টিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ
বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ৪০ জন শরণার্থী হাইকোর্টেও কাছে এক
পিটিশনে অভিযোগ করেছিলেন যে, তাদেও নাম ভোটার তালিকায় তোলা হচ্ছে না।
প্রশাসনের মতে, এদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মেঘালয়ের বি-ভোজ জেলার
বাসিন্দা এই বাংলাদেশীদের সকলের নাগরিকত্বেও সার্টিফিকেট রয়েছে। জেলা
প্রশাসন অবশ্য সেই সব সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করেছেন। বাংলাদেশি শরণার্থীদেও
পিটিশনের জবাবে বিচারপতি এস আর সেন গত ১৫ই মে তার রায়ে রি-ভোজ জেলার
ডেপুুটি কমিশনার পুজা পান্ডেকে আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট ফেরত
দেবার পাশাপাশি এদের সকলের নাম ভোটার তালিকায় তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিচারপতি সেন বলেছেন, কাকে ভারতে থাকতে দেয়া হবে এবং কাকে ফেরত পাঠানো হবে এ
ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটা বোঝপড়া রয়েছে। আর আবেদনকারীদের পুর্বপুরুষ
একাত্তরের আগেই ভারতে এসেছিলেন। তাই তাদের ফেরত পাঠানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে
না। তাছাড়া তারা স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনও পেয়েছেন। রাজ্যের মতে, এরা সকলেই
বাংলাদেশি নাগরিক। এদের অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিচারক
সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, এদের কোনওভাবেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয সরকার
বিরক্ত করতে পারবে না। বরং এদের ভালভাবে পুনর্বাসন দেবার ব্যবস্থা করার
নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
No comments:
Post a Comment