যেকোনো মৃত্যুই কষ্টের। তবে অস্বাভাবিক
মৃত্যু তো আরও বেশি কষ্টের। একজন মানুষ হারানোর কষ্ট একমাত্র ভিকটিম ছাড়া
কেউ বোঝে না। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জলকুড়ি এলাকায় অপহরণের পর
নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের বাড়িতে তার জামাতা
বিজয় কুমার পাল একথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতিটা মানুষের চলে যাওয়াই কষ্টের।
কিন্তু কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

আমাদের
পরিবারের সদস্যদের অবস্থাও তাই। দুপুরে জলকুড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,
নিহতের স্বজনদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। ঠাকুর্দাকে
হারিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে শুধু কাঁদছে ছোট নাতনীটিও। নির্বাক হয়ে এ-ঘর
থেকে ও-ঘরে খুঁজে ফিরছে ঠাকুর্দা। চন্দন সরকারের মৃত্যুর পর থেকেই নির্বাক
হয়ে পড়েছে তার ছোট মেয়ে সপ্তর্ষি। নিখোঁজ হওয়ার দিন বাবা তার সঙ্গে
কোচিংয়ে যাবে বলে আগেই আদালত থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আর ঘরে ফেরেননি।
জানতে চাইলে শিশু মেয়েকে দেখিয়ে বিজয় বলেন, এই শিশুকে দেখলেই বুঝবেন। আমরা
কেউ-ই ভালো নেই। সংসারটা এলোমেলো হয়ে গেছে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম
খালেদাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নিহত চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চনা
সরকার, বড় মেয়ে ডা. সুস্মিতা সরকার, ছোট মেয়ে সপ্তর্ষি সরকারসহ তার চার
মেয়ে। এসময় খালেদা জিয়া তাদের সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরুন।
আমরা আপনাদের পাশে আছি, পাশে থাকবো। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হতেই হবে।
আজকের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার দাবি করে তিনি বলেন, এদের সর্বোচ্চ শাস্তি
দিতে হবে। এ সময় খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নিহত
অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চনা সরকার ও তার মেয়েরা। বড় মেয়ে ডা.
সুস্মিতা সরকার বলেন, আমাদের এই দুর্দিনে আপনাদের পাশে পেয়ে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি। আমরা আমাদের বাবা হত্যার বিচার চাই।মেয়েদের স্পর্শের বাইরে
চলে গেলেও চন্দন সরকারের আদরের মেয়েরা ঘুরে ফিরে ঢুকছেন তার ঘরেই। ঘরের
দেয়ালে রয়েছে বাবার ছবি, টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন আইনের বই,
সাহিত্যসহ নানা গল্পের বই। পাশে তার ব্যবহৃত চেয়ার, এলামেলো লুঙ্গি শার্ট
ঝুললেও চন্দন সরকারের অস্তিত্ব নেই। এরপরও তার মেয়েরা অপেক্ষায় আছেন, মনে
হচ্ছে অতি শিগগিরই ফিরে আসছেন চন্দন সরকার!
No comments:
Post a Comment