এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাতীয়ভিত্তিক কোনো ন্যূনতম মজুরি
বাংলাদেশে প্রবর্তন করা যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ন্যূনতম
মজুরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি যেন হারিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, শ্রমিকদের দিক
থেকে একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরির দাবি রয়েছে অনেক দিন ধরে। শ্রম অধিকার নিয়ে
যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাও জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরির তাগিদ দিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে মালিকপক্ষ এ ধরনের কোনো মজুরি-সীমা নির্ধারণের বিরোধিতা করে আসছে
বরাবর। জাতীয় ন্যূনতম মজুরির সমর্থনে বলা হয়, এটি সার্বিকভাবে দেশের মজুরি
কাঠামোর জন্য একটি ন্যূনতম মানদণ্ড তৈরি করা। এটি থাকলে সব ধরনের শ্রমজীবী
মানুষের মজুরির জন্য একটি জাতীয় নিম্নসীমা প্রদান করা সম্ভব হয়। এরপর কাজের
ধরন ও খাতভেদে পৃথকভাবে মজুরি নির্ধারণ করা হয়। কেননা, শিল্প খাতের
সামর্থ্য ও সক্ষমতা বিচার করে খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরিই যুক্তিযুক্ত। একটি
শ্রমঘন শিল্পে যে ধরনের ন্যূনতম মজুরি প্রয়োজন হবে, একটি পুঁজিঘন শিল্পে
সে ধরনের ন্যূনতম মজুরি প্রয়োজন হবে না।

যোগাযোগ
করা হলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার প্রথম আলোকে বলেন,
‘জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি একটি জটিল বিষয়। শ্রম আইনেও এ বিষয়ে কিছুটা
বাধা আছে। তবে নীতিনির্ধারকেরা চাইলে অবশ্যই এটি করা যেতে পারে। কেননা,
জাতীয় ন্যূনতম মজুরি দেশে মজুরির একটি নিম্নতম মান নির্ধারণ করে, শ্রমিকদের
একটি নিম্নতম আর্থিক নিরাপত্তার আইনি সুযোগ তৈরি হয়।’
মিকাইল শিপার আরও বলেন, জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি থাকলেও খাতওয়ারি ন্যূনতম মজুরির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ হওয়ার কথা নয়। বিভিন্ন শিল্প খাতের ব্যাপ্তি ও সক্ষমতা অনুসারে সেই খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়। আর জাতীয় ন্যূনতম প্রধানত মজুরি অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের একটি আর্থিক সুরক্ষা দেয়।
কবে নাগাদ বাংলাদেশের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো হতে পারে জানতে চাইলে শ্রমসচিব বলেন, এটি নির্ধারণ তুলনামূলকভাবে জটিল। সবদিক চিন্তাভাবনা করে অগ্রসর না হলে সমস্যা হতে পারে। তবে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।
তবে বেসরকারি শিল্পমালিকেরা খাতওয়ারি ন্যূনতম মজুরির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, খাতভিত্তিক মজুরি হলে বরং শ্রমিকদের প্রতি অধিকতর সুবিচার কর হয়।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের মতে, একটি জাতীয়ভিত্তিক নিম্নতম মজুরি একদিকে দেশের বিরাট অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য মজুরি প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে। অথচ অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপখাতের সেই সক্ষমতা নেই। অন্যদিকে অধিক হারে মজুরি দিতে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্প খাত জাতীয় ন্যূনতম মজুরির অজুহাত তুলে শ্রমিকদের কম মজুরি দিতে চাইবে, যা আবার শ্রম অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
তৈরি পোশাক বা ওষুধশিল্পের শ্রম মজুরি আর দেশলাই কারখানার বা হোসিয়ারিশিল্পের ন্যূনতম মজুরি একই ধরনের হতে পারে না উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, আসলে খাতভিত্তিক মজুরি সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার আলোকে নির্ধারণ করার সুযোগ থাকে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শ্রমবাজারকেও প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিক এবং অপ্রথাগত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক—এ দুটো ভাবে ভাগ করা যায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল এক কোটি দুই লাখ (পুরুষ ৮৬ লাখ, নারী ১৬ লাখ) এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা তিন কোটি ৭২ লাখ (পুরুষ দুই কোটি ৭৫ লাখ, নারী ৯৭ লাখ)। তবে চার বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক শ্রমশক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ (৫৫ লাখ পুরুষ ও ১৩ লাখ নারী)। আর অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমশক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৭৩ লাখ (তিন কোটি ২৪ লাখ পুরুষ ও এক কোটি ৪৯ লাখ নারী)।
প্রতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সম্পর্ক সরকার অনুমোদিত শ্রম আইনের প্রয়োগ, শ্রমিক ও মালিকের কর্তব্য আলাদাভাবে স্থির করা, শ্রমিকের কাজের সময়ের পূর্বনির্ধারণ এবং ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমের অনুমোদন—এসবের নিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানেই এই প্রথাগত শ্রমবাজারের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে এসব নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হয় না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছে তার মধ্যে আছে শ্রমিকের সহজ অন্তর্ভুক্তি, অপরিচিত উৎস বা মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা, পারিবারিক মালিকানা, সরকারি স্বীকৃতিহীনতা ইত্যাদি।
অবশ্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিআইএলএস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এ
প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি অনেকগুলো অসংগঠিত খাত আছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু তাঁদের মজুরির জন্য কোনো দিকনির্দেশনা নেই। একটি জাতীয় মজুরি থাকলে তাঁরা একটা ভিত্তি খুঁজে পাবেন, যা আবার সব খাতের জন্য
একটি নিম্নতম মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। তা ছাড়া জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি থাকলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি সমন্বয় করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
বিআইএলএসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, উচ্চ আদালত যখন ন্যূনতম জাতীয় মজুরি স্থগিত করে দিয়েছিলেন, তখন মজুরি নির্ধারণ-প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়গুলো উল্লেখ করেছিলেন। এটি বেআইন কাজ, এমন কোনো নির্দেশনা আদালত দেননি। তাই সরকারের উচিত পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে এই কাজে অগ্রসর হওয়া।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড সরকার ১৮৯৪ সালে প্রথম জাতীয় ন্যূনতম মজুরির প্রবর্তন করে। এরপর ১৮৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ১৯৯০ সালে গ্রেট ব্রিটেনে এই মজুরি প্রথার প্রবর্তন করা হয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি চালু হয় ১৯৩৮ সালে। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্যে নতুনভাবে ন্যূনতম জাতীয় মজুরি পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে ১৯২টি দেশে জাতীয়ভিত্তিক ও খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি চালু আছে।
দুই দশকের চালচিত্র
১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ১১টি শিল্প খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়
২০০১ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ১,২০০ টাকা ও বড় শিল্পে ১,৩৫০ টাকা মাসিক ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ঘোষিত হয়
২০০৪ সালের নিম্নতম মজুরি বোর্ড জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরির বদলে খাতভিত্তিক মজুরি নির্ধারণের কাজ শুরু করে
২০১১ সাল পর্যন্ত তৈরি পোশাকশিল্পসহ মোট ৪২টি খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়
মালিকপক্ষ
জাতীয় ন্যূনতম মজুরির বিরোধিতা করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। মজুরি নির্ধারণে পদ্ধতিগত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় উচ্চ আদালত এ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা স্থগিত ঘোষণা করেন।
কর্মসংস্থানের প্রবণতা
সাল আনুষ্ঠানিক খাত অনানুষ্ঠানিক খাত
২০০৫-০৬ ১ কোটি ২ লাখ ৩ কোটি ৭২ লাখ
২০১০ ৬৮ লাখ ৪ কোটি ৭৩ লাখ
মিকাইল শিপার আরও বলেন, জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি থাকলেও খাতওয়ারি ন্যূনতম মজুরির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ হওয়ার কথা নয়। বিভিন্ন শিল্প খাতের ব্যাপ্তি ও সক্ষমতা অনুসারে সেই খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়। আর জাতীয় ন্যূনতম প্রধানত মজুরি অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের একটি আর্থিক সুরক্ষা দেয়।
কবে নাগাদ বাংলাদেশের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো হতে পারে জানতে চাইলে শ্রমসচিব বলেন, এটি নির্ধারণ তুলনামূলকভাবে জটিল। সবদিক চিন্তাভাবনা করে অগ্রসর না হলে সমস্যা হতে পারে। তবে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।
তবে বেসরকারি শিল্পমালিকেরা খাতওয়ারি ন্যূনতম মজুরির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, খাতভিত্তিক মজুরি হলে বরং শ্রমিকদের প্রতি অধিকতর সুবিচার কর হয়।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের মতে, একটি জাতীয়ভিত্তিক নিম্নতম মজুরি একদিকে দেশের বিরাট অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য মজুরি প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে। অথচ অনানুষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপখাতের সেই সক্ষমতা নেই। অন্যদিকে অধিক হারে মজুরি দিতে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্প খাত জাতীয় ন্যূনতম মজুরির অজুহাত তুলে শ্রমিকদের কম মজুরি দিতে চাইবে, যা আবার শ্রম অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
তৈরি পোশাক বা ওষুধশিল্পের শ্রম মজুরি আর দেশলাই কারখানার বা হোসিয়ারিশিল্পের ন্যূনতম মজুরি একই ধরনের হতে পারে না উল্লেখ করে ফজলুল হক বলেন, আসলে খাতভিত্তিক মজুরি সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার আলোকে নির্ধারণ করার সুযোগ থাকে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শ্রমবাজারকেও প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিক এবং অপ্রথাগত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক—এ দুটো ভাবে ভাগ করা যায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল এক কোটি দুই লাখ (পুরুষ ৮৬ লাখ, নারী ১৬ লাখ) এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা তিন কোটি ৭২ লাখ (পুরুষ দুই কোটি ৭৫ লাখ, নারী ৯৭ লাখ)। তবে চার বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিক শ্রমশক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখ (৫৫ লাখ পুরুষ ও ১৩ লাখ নারী)। আর অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমশক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৭৩ লাখ (তিন কোটি ২৪ লাখ পুরুষ ও এক কোটি ৪৯ লাখ নারী)।
প্রতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সম্পর্ক সরকার অনুমোদিত শ্রম আইনের প্রয়োগ, শ্রমিক ও মালিকের কর্তব্য আলাদাভাবে স্থির করা, শ্রমিকের কাজের সময়ের পূর্বনির্ধারণ এবং ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমের অনুমোদন—এসবের নিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানেই এই প্রথাগত শ্রমবাজারের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারে এসব নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করা হয় না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমবাজারের যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছে তার মধ্যে আছে শ্রমিকের সহজ অন্তর্ভুক্তি, অপরিচিত উৎস বা মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা, পারিবারিক মালিকানা, সরকারি স্বীকৃতিহীনতা ইত্যাদি।
অবশ্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিআইএলএস) সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এ
প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি অনেকগুলো অসংগঠিত খাত আছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু তাঁদের মজুরির জন্য কোনো দিকনির্দেশনা নেই। একটি জাতীয় মজুরি থাকলে তাঁরা একটা ভিত্তি খুঁজে পাবেন, যা আবার সব খাতের জন্য
একটি নিম্নতম মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। তা ছাড়া জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি থাকলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি সমন্বয় করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
বিআইএলএসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, উচ্চ আদালত যখন ন্যূনতম জাতীয় মজুরি স্থগিত করে দিয়েছিলেন, তখন মজুরি নির্ধারণ-প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়গুলো উল্লেখ করেছিলেন। এটি বেআইন কাজ, এমন কোনো নির্দেশনা আদালত দেননি। তাই সরকারের উচিত পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে এই কাজে অগ্রসর হওয়া।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড সরকার ১৮৯৪ সালে প্রথম জাতীয় ন্যূনতম মজুরির প্রবর্তন করে। এরপর ১৮৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ১৯৯০ সালে গ্রেট ব্রিটেনে এই মজুরি প্রথার প্রবর্তন করা হয়। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি চালু হয় ১৯৩৮ সালে। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্যে নতুনভাবে ন্যূনতম জাতীয় মজুরি পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বে ১৯২টি দেশে জাতীয়ভিত্তিক ও খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি চালু আছে।
দুই দশকের চালচিত্র
১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ১১টি শিল্প খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়
২০০১ সালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ১,২০০ টাকা ও বড় শিল্পে ১,৩৫০ টাকা মাসিক ন্যূনতম জাতীয় মজুরি ঘোষিত হয়
২০০৪ সালের নিম্নতম মজুরি বোর্ড জাতীয়ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরির বদলে খাতভিত্তিক মজুরি নির্ধারণের কাজ শুরু করে
২০১১ সাল পর্যন্ত তৈরি পোশাকশিল্পসহ মোট ৪২টি খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়
মালিকপক্ষ
জাতীয় ন্যূনতম মজুরির বিরোধিতা করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। মজুরি নির্ধারণে পদ্ধতিগত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় উচ্চ আদালত এ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা স্থগিত ঘোষণা করেন।
কর্মসংস্থানের প্রবণতা
সাল আনুষ্ঠানিক খাত অনানুষ্ঠানিক খাত
২০০৫-০৬ ১ কোটি ২ লাখ ৩ কোটি ৭২ লাখ
২০১০ ৬৮ লাখ ৪ কোটি ৭৩ লাখ
No comments:
Post a Comment