বরগুনায় মানববন্ধন
বরগুনার তালতলী উপজেলার আমখোলা গ্রামে শিশু রবিউল আউয়াল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অভিযুক্ত মিরাজের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গরমিল আছে বলে অভিযোগ করেছেন রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা। তাঁর অভিযোগ, মিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বুধবার বিকেলে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের যে বর্ণনা দেয়, পরদিন আদালতে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তার গরমিল রয়েছে। এতে মামলার বিচার-প্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে মোড় নিতে পারে।
গত শনিবার দুপুরে বরগুনায় রবিউলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে দুলাল মৃধা ওই অভিযোগ করেন।
পরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে দুলাল মৃধা বলেন, ‘গত বুধবার দুপুরে মিরাজকে গ্রেপ্তারের পর ওই দিন বিকেলে তালতলী থানার ওসি বাবুল আকতার মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। যেখানে রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে সেসব স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় আমিও সেখানে যেতে চাইলে পুলিশ আমাকে দূরে থাকতে বলে। আমি নিকট দূরত্বে দাঁড়িয়ে ওসির কাছে মিরাজের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা শুনেছি। সেখানে মিরাজ ওসির কাছে স্বীকার করে, সে প্রথমে রবিউলকে ধরে মোটা লাঠি দিয়ে পেটায়। এরপর টর্চ দিয়ে বাঁ চোখে আঘাত করে। পরে রবিউলের চুল ধরে তার (মিরাজ) নানার বাড়ির সামনের মসজিদের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে রবিউল লুটিয়ে পড়ে। এরপর কাছে গিয়ে দেখে রবিউল নড়াচড়া করছে না। এরপর রবিউলকে কাঁধে করে মিরাজ তার নানার বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মিরাজের ছোট ভাই আবদুল্লাহ ও তার নানি রবিউলের মাথায় পানি দেন। কিন্তু এতে রবিউলের অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে মিরাজ নিশ্চিত হয় রবিউল মারা গেছে। এরপরে রবিউলের মৃতদেহ পাশের নখরার খালে ফেলে দেয় মিরাজ।’
রবিউলের বাবার ভাষ্য, ‘পরের দিন ওসি সাহেব আমাকে কিছু না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে মিরাজকে পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা আদালতে নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ায়। জবানবন্দিতে মিরাজ বলেছে, রবিউল দৌড় দিলে সে তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে লুটিয়ে পড়ে। অথচ যে স্থানের কথা বলা হয়েছে সেখানে কোনো তাল গাছই নেই।
দুলাল মৃধা বলেন, ‘জবানবন্দি শুনে আমি ওসি সাহেবকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করি। তিনি আমাকে বলেন, “আসামি আমাদের কাছে যা বলেছে আদালতেও একই কথা বলেছে।”’
তালতলী থানার ওসি বাবুল আকতার গতকাল বিকেলে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া কথা। আসামি মিরাজ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে যে বর্ণনা দিয়েছে আদালতে জবানবন্দিতেও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একই বর্ণনা দিয়েছে।’ তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,‘রবিউলের বাবা দুলাল এখন নতুন ব্যবসা শুরু করেছে। সে এলাকার বিভিন্ন লোককে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছে এই বলে টাকা দাও না হয় ছেলের খুন মামলায় ঢুকিয়ে দেবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে মামলাটির তদন্ত করছি। কোনো অবহেলা আমাদের নেই।’
মানববন্ধন: এদিকে গতকাল দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে উদীচীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। দুপুর ১২টায় শহরের সদর রোডে মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তৃতা দেন উদীচী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. শাহজাহান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল মোতালেব মিয়া, নিহত রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা, খেলাঘরের সভাপতি মনিরুজ্জামান ওরফে নসা, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা, ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী চিত্তরঞ্জন শীল, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
বরগুনার তালতলী উপজেলার আমখোলা গ্রামে শিশু রবিউল আউয়াল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অভিযুক্ত মিরাজের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গরমিল আছে বলে অভিযোগ করেছেন রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা। তাঁর অভিযোগ, মিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বুধবার বিকেলে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের যে বর্ণনা দেয়, পরদিন আদালতে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তার গরমিল রয়েছে। এতে মামলার বিচার-প্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে মোড় নিতে পারে।
গত শনিবার দুপুরে বরগুনায় রবিউলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে দুলাল মৃধা ওই অভিযোগ করেন।
পরে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে দুলাল মৃধা বলেন, ‘গত বুধবার দুপুরে মিরাজকে গ্রেপ্তারের পর ওই দিন বিকেলে তালতলী থানার ওসি বাবুল আকতার মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। যেখানে রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে সেসব স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় আমিও সেখানে যেতে চাইলে পুলিশ আমাকে দূরে থাকতে বলে। আমি নিকট দূরত্বে দাঁড়িয়ে ওসির কাছে মিরাজের দেওয়া হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা শুনেছি। সেখানে মিরাজ ওসির কাছে স্বীকার করে, সে প্রথমে রবিউলকে ধরে মোটা লাঠি দিয়ে পেটায়। এরপর টর্চ দিয়ে বাঁ চোখে আঘাত করে। পরে রবিউলের চুল ধরে তার (মিরাজ) নানার বাড়ির সামনের মসজিদের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে রবিউল লুটিয়ে পড়ে। এরপর কাছে গিয়ে দেখে রবিউল নড়াচড়া করছে না। এরপর রবিউলকে কাঁধে করে মিরাজ তার নানার বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মিরাজের ছোট ভাই আবদুল্লাহ ও তার নানি রবিউলের মাথায় পানি দেন। কিন্তু এতে রবিউলের অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে মিরাজ নিশ্চিত হয় রবিউল মারা গেছে। এরপরে রবিউলের মৃতদেহ পাশের নখরার খালে ফেলে দেয় মিরাজ।’
রবিউলের বাবার ভাষ্য, ‘পরের দিন ওসি সাহেব আমাকে কিছু না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে মিরাজকে পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলা আদালতে নিয়ে জবানবন্দি দেওয়ায়। জবানবন্দিতে মিরাজ বলেছে, রবিউল দৌড় দিলে সে তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে লুটিয়ে পড়ে। অথচ যে স্থানের কথা বলা হয়েছে সেখানে কোনো তাল গাছই নেই।
দুলাল মৃধা বলেন, ‘জবানবন্দি শুনে আমি ওসি সাহেবকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করি। তিনি আমাকে বলেন, “আসামি আমাদের কাছে যা বলেছে আদালতেও একই কথা বলেছে।”’
তালতলী থানার ওসি বাবুল আকতার গতকাল বিকেলে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া কথা। আসামি মিরাজ আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে যে বর্ণনা দিয়েছে আদালতে জবানবন্দিতেও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একই বর্ণনা দিয়েছে।’ তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,‘রবিউলের বাবা দুলাল এখন নতুন ব্যবসা শুরু করেছে। সে এলাকার বিভিন্ন লোককে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করছে এই বলে টাকা দাও না হয় ছেলের খুন মামলায় ঢুকিয়ে দেবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে মামলাটির তদন্ত করছি। কোনো অবহেলা আমাদের নেই।’
মানববন্ধন: এদিকে গতকাল দুপুরে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে উদীচীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। দুপুর ১২টায় শহরের সদর রোডে মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে বক্তৃতা দেন উদীচী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. শাহজাহান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল মোতালেব মিয়া, নিহত রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা, খেলাঘরের সভাপতি মনিরুজ্জামান ওরফে নসা, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা, ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী চিত্তরঞ্জন শীল, সাংবাদিক হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment