![]() |
| বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া পৌরসভার আমান্যারচর এলাকার একটি চিচিঙ্গাখেত। ছবিটি ৩ আগস্ট তোলা -প্রথম আলো |
বিলের
পর বিল খিরাখেত। খেতের একটি গাছের পাতাও সবুজ নেই। মরে লালচে হয়ে গেছে।
শুধু দাঁড়িয়ে আছে খিরার গাছ বেঁধে দেওয়া বাঁশের কঞ্চিগুলো। এই চিত্র
চকরিয়ার কৈয়ারবিলের ভরান্যারচর এলাকার। গত সোমবার সকালে ওই এলাকায় গেলে
খেতের পাড়েই কথা হয় চাষি দেলোয়ার হোসেনের (৫৫) সঙ্গে। হতাশ কণ্ঠে বলেন,
দুই কানি খিরাখেত করেছিলাম। জমি লাগিয়ত, বীজ ও পরিচর্যায় খরচ পড়েছে ১ লাখ
৩০ হাজার টাকা। খেত থেকে শুধু ১০ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করার পর বন্যায়
সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’ একই অবস্থা ওই এলাকার
খিরাচাষি নুর কবির, মো. ইব্রাহিম, শামশুল আলম ও আবদুল গনির। ওই চাষিরা
জানান, সহায়সম্বল সব খেতের পেছনে ব্যয় করেছেন। সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে আবার
চাষাবাদ করার সুযোগ করে দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান চাষিরা।
একই ইউনিয়নের ছোয়ালিয়াপাড়ায়ও করুণ চিত্র। নষ্ট হওয়া খেতের পাশে বসে আছেন কৃষকেরা। কথা হয় কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইলের (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেড় একর জমিতে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে শসা, ঢ্যাঁড়স, কাকরোল, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও চিচিঙ্গার চাষ করি। দেড় লাখ টাকার ফসল তুলে বিক্রিও করি। কিন্তু ২২ জুন পরবর্তী বন্যায় সব পচে গেছে। পুঁজি তো তুলতেই পারিনি ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করব বুঝে উঠতে পারছি না।’ খোঁজাখালী গ্রামের চাষি হাফেজ আহমদ (৩৬) বলেন, ‘একবার ডুবেছি পাহাড়ি ঢলে আরেকবার জোয়ারের পানিতে। ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে দুই একরের আমনের আবাদও।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ জানান, চকরিয়া উপজেলায় দুই দফার বন্যায় ২৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৪ আগস্ট এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপপরিচালক, কক্সবাজার বরাবর পাঠানো হয়েছে। এদিকে পেকুয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৯১০ একর কৃষিজমি তলিয়ে গিয়ে ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য ও কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, এক মাসের ব্যবধানে দুই দফা বন্যার কবলে পড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় মৎস্য ও কৃষি খাতে ৪৭৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চিংড়িঘের, মৎস্য প্রদর্শনীর খামার, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর, দিঘি, আমনের বীজতলা, সবজিখেত ও পানের বরজ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৬৬ জন মৎস্যচাষি ও ২০ হাজার ৭২৬ জন কৃষক। অনেক চাষি ব্যাংক ও অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মৎস্য ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ করায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
পেকুয়া উপজেলার দক্ষিণ মগনামার মৎস্যচাষি রবিউল ইসলাম (৩৫) বলেন, ‘সারা জীবনের পুঁজি দিয়ে ঘের করেছিলাম। বেড়িবাঁধ ভেঙে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন কীভাবে দাঁড়াব, বুঝে উঠতে পারছি না।’
চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা (পেকুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ‘কোমেন’–এর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩১ হাজার ৭৬ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের চিংড়িঘের, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর, দিঘি ও মৎস্য প্রদর্শনীর খামার তলিয়ে গেছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ৪০৭ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ১ আগস্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সাইফুর রহমান আরও বলেন, পেকুয়া উপজেলায় ৪৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
জানতে চাইলে ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ফোয়াব) সহসভাপতি ও চিংড়ি বিপণনকেন্দ্র দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দু্ই দফা বন্যায় দেউলিয়া হয়ে গেছেন চাষিরা। মৎস্য খাত টিকিয়ে রাখতে হলে চাষিদের করমুক্ত রেখে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।’
একই ইউনিয়নের ছোয়ালিয়াপাড়ায়ও করুণ চিত্র। নষ্ট হওয়া খেতের পাশে বসে আছেন কৃষকেরা। কথা হয় কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইলের (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেড় একর জমিতে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে শসা, ঢ্যাঁড়স, কাকরোল, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও চিচিঙ্গার চাষ করি। দেড় লাখ টাকার ফসল তুলে বিক্রিও করি। কিন্তু ২২ জুন পরবর্তী বন্যায় সব পচে গেছে। পুঁজি তো তুলতেই পারিনি ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করব বুঝে উঠতে পারছি না।’ খোঁজাখালী গ্রামের চাষি হাফেজ আহমদ (৩৬) বলেন, ‘একবার ডুবেছি পাহাড়ি ঢলে আরেকবার জোয়ারের পানিতে। ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে দুই একরের আমনের আবাদও।’
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ জানান, চকরিয়া উপজেলায় দুই দফার বন্যায় ২৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৪ আগস্ট এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপপরিচালক, কক্সবাজার বরাবর পাঠানো হয়েছে। এদিকে পেকুয়া উপজেলায় ১২ হাজার ৯১০ একর কৃষিজমি তলিয়ে গিয়ে ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য ও কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, এক মাসের ব্যবধানে দুই দফা বন্যার কবলে পড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় মৎস্য ও কৃষি খাতে ৪৭৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চিংড়িঘের, মৎস্য প্রদর্শনীর খামার, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর, দিঘি, আমনের বীজতলা, সবজিখেত ও পানের বরজ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৬৬ জন মৎস্যচাষি ও ২০ হাজার ৭২৬ জন কৃষক। অনেক চাষি ব্যাংক ও অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মৎস্য ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ করায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
পেকুয়া উপজেলার দক্ষিণ মগনামার মৎস্যচাষি রবিউল ইসলাম (৩৫) বলেন, ‘সারা জীবনের পুঁজি দিয়ে ঘের করেছিলাম। বেড়িবাঁধ ভেঙে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন কীভাবে দাঁড়াব, বুঝে উঠতে পারছি না।’
চকরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা (পেকুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ‘কোমেন’–এর প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চকরিয়া উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩১ হাজার ৭৬ দশমিক ৮০ হেক্টর আয়তনের চিংড়িঘের, ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর, দিঘি ও মৎস্য প্রদর্শনীর খামার তলিয়ে গেছে। মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ৪০৭ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ১ আগস্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সাইফুর রহমান আরও বলেন, পেকুয়া উপজেলায় ৪৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
জানতে চাইলে ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ফোয়াব) সহসভাপতি ও চিংড়ি বিপণনকেন্দ্র দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দু্ই দফা বন্যায় দেউলিয়া হয়ে গেছেন চাষিরা। মৎস্য খাত টিকিয়ে রাখতে হলে চাষিদের করমুক্ত রেখে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।’

No comments:
Post a Comment