Saturday, August 15, 2015

রাজশাহীতে শিশুকে পিটুনি, খুন্তির ছ্যাঁকা

রত্না খাতুন
রাজশাহীতে এক শিশু গৃহকর্মীকে বেলন দিয়ে পিটিয়ে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই মাস আগে তাকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছিল বলে শিশুটি জানিয়েছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং গৃহকর্তাকে আটক করে।
শিশুটির নাম রত্না খাতুন (১১)। বাড়ি ঠাকুরগাঁও। বাবার নাম আবদুর রহিম। গৃহকর্তার নাম জিল্লুর রহমান। তিনি একজন এনজিওকর্মী। তাঁর স্ত্রীর নাম রীতা খাতুন (৪০)। তাঁরা রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
দুপুরে জিল্লুর রহমানের ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়। জিল্লুর রহমান স্ত্রীকে অন্য জায়গায় রেখে নিজে একা বাড়িতে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এলে তিনি ঘর খুলে দেন। এরপর শিশুটি ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। দেখা যায়, বেলনের আঘাতে তার দুই বাহু লাল হয়ে আছে।
রত্না খাতুন বলে, তারা চার বোন। সে মেজো। বাড়িতে থাকতে স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয়। ছয় বছর ধরে সে এই পরিবারের সঙ্গে আছে। কাজের বিনিময়ে প্রতি মাসে ১০০ টাকা বিকাশ করে তার মা শরীফা খাতুনের কাছে পাঠানো হয়। গত ছয় বছরে তাকে একবারও বাড়িতে যেতে দেওয়া হয়নি।
রত্না খাতুন বলে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মিষ্টি চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে তাকে রীতা খাতুন বেলন দিয়ে পেটান। সে চিৎকার করে কান্না শুরু করলে তার মুখে থাপড় মারেন তিনি। পরে চুল ধরে তুলে আছাড় দেন। একসময় বাড়ির একটি কক্ষে তাকে তালা দিয়ে আটকে রেখে সবাই বাইরে চলে যান। সে ঘরে কাঁদছিল। এ সময় প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে তাকে দেখতে পায়। তখন অনেক মানুষ ভিড় করে। পুলিশ আসে।
প্রতিবেশীরা বলেন, প্রতিদিন তারা ওই বাসার ভেতর থেকে শিশুটির কান্না শুনতেন। কখনো শিশুটি বলে, ‘আপনার পা ধরি খালু, মারবেন না খালু...।’
গতকাল পুলিশ নির্যাতনের শিকার শিশুসহ গৃহকর্তা জিল্লুর রহমানকে নগরের মতিহার থানায় নিয়ে যায়। এ সময় কেন শিশুটিকে মারা হয়েছে জানতে চাইলে জিল্লুর বলেন, ‘এটা সামান্য ব্যাপার। এ নিয়ে সাংবাদিক কেন। কিছু বলতে হলে আমি থানায় গিয়ে বলব।’
মতিহার থানার উপপরিদর্শক কাজল রেখা বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থানা পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে। ওসি স্যার বলতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment