Friday, August 7, 2015

ছাত্রী ও শিশু ধর্ষণ: গ্রেপ্তার হওয়া যুবকেরা তিন দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া যুবকেরা কেউই এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। পুলিশ বলছে, যুবকেরা দাবি করছেন যে তাঁরা ওই ছাত্রীকে জিম্মি করে টাকা আদায় করতে এসেছিলেন। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবণী শংকর কর প্রথম আলোকে বলেন, আদৌ সেখানে কি হয়েছে পুলিশ তা বুঝতে পারছে না। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই কলেজছাত্রী এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই ফয়সাল, শাহাদাৎ ও বাবু নামের তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে। ছাত্রীটি অভিযোগ করেছে, তাকে একটি কক্ষে আটকে চার যুবক ধর্ষণ করেছেন।
যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ জানায়, ধর্ষিত ছাত্রীর বয়স ১৭ বছর। বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। সে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই ছাত্রী তার এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে আসে যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তারা যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার ছনটেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যায়। তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় পাঁচ-ছয় যুবক ওই বাসায় গিয়ে বন্ধুকে বেঁধে ছাত্রীটিকে জিম্মি করেন। ধর্ষিতা ছাত্রী অভিযোগ করে, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধুটিকে পাশের কক্ষে বেঁধে রেখে বখাটে যুবকেরা তাকে ধর্ষণ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তরুণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে কিছু সময় পরই পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে উদ্ধার এবং তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, রাজধানীর ভাটারার নয়ানগর এলাকায় গতকাল ১৪ বছরের এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আল আমিনকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাটারা থানার এসআই মেহেদি হাসান জানান, গতকাল আল আমিন প্রতিবেশী মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন। আল আমিন পলাতক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক বিলকিস বেগম বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। আজ বৃহস্পতিবার তার ডিএনএ ও এক্স-রে পরীক্ষা করা হবে। ধর্ষণের ঘটনায় সে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ জন্য মনোচিকিৎসক দিয়ে তাকে কাউন্সেলিং করানো হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

No comments:

Post a Comment