Friday, August 7, 2015

ছোট্ট শরীরে ছ্যাঁকা কামড় আর আঁচড়

বরিশাল নগরে এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রয়েছে।
এ ঘটনায় ১২ বছরের ওই শিশু জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছে।
নগরের রূপাতলী এলাকার গাউছিয়া সড়কের মো. মাছুম সিকদারের বাড়িতে কাজ করত শিশুটি। নির্যাতনের বিষয়ে ২৯ জুলাই থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা রেকর্ড হয় গত মঙ্গলবার। এতে আসামি করা হয়েছে গৃহকর্তা মাসুম সিকদার ও তাঁর স্ত্রী শিমুল বেগমকে।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বরিশাল বিভাগীয় প্রধান মুনীরা বেগম জানান, ২৯ জুলাই রাতে মাছুম সিকদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে বিশেষ করে পিঠে অনেকগুলো কামড়ের দাগ রয়েছে। মুখজুড়ে ক্ষতচিহ্ন। হাতে ছুরি দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ গড়িমসি করায় মামলা করায় দেরি হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগ আগে দিলেও নির্যাতনের শিকার শিশুটির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটির শরীরজুড়ে নির্যাতনের চিহ্ন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা পলাতক।
বাকেরগঞ্জের বাংলাবাজার গ্রামের বাদশা খলিফার শিশুকন্যা সাবিনা আক্তার পাঁচ বছর ধরে মৌসুম সিকদার ও শিমুল বেগম দম্পতির বাসায় কাজ করে আসছিল। সে বাড়িতে পুড়ে গিয়েছিল। তার অস্ত্রোপচারের কথা বলে তাকে নিয়ে আসেন এই দম্পতি।
সাবিনা জানায়, কোনো চিকিৎসা না করিয়ে বিনা বেতনে এত দিন তাকে খাটিয়ে আসছিল ওই দম্পতি। তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো শুরু হয়। অভিযোগ পেয়ে ৮ জুন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি তাকে উদ্ধার করে। তখন দম্পতি স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন যে তাঁরা আর নির্যাতন করবেন না। কিন্তু আইনজীবী সমিতির সদস্যরা চলে আসার পর আবার তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। তার পিঠে খুনতির ছ্যাঁকা ও সারা শরীর কাঁটা-চামচ দিয়ে আঁচড়ে দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment