Friday, August 7, 2015

উদ্বোধনের ছয় মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণ

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের নির্মাণকাজ
বর্ধিত মেয়াদেও শেষ হচ্ছে না। ছবি -প্রথম আলো
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৮ জানুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির বর্ধিত মেয়াদ ১৮ আগস্ট শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আবাসন সমস্যার সমাধানে ২০১১ সালে সরকারের কাছে নতুন তিনটি আবাসিক হল নির্মাণের প্রস্তাব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনটি হলের পরিবর্তে একটি হল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাজশাহী সফরে এসে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর হল নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন ও দেশ উন্নয়ন লিমিটেডকে। এরপর ২০ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনতলা হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের চেয়ে আধুনিক এ হলটির নির্মাণকাজ শুরু থেকেই ধীরগতিতে চলছে।
প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৪ সাল পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট করা হয়। তবে এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে এসে ফজিলাতুন্নেসা হলের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ। তখন হলের নির্মাণকাজের অনেক বাকি থাকলেও তড়িঘড়ি করে প্রধান ফটকে উদ্বোধন ফলক স্থাপন করা হয়।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, হলের তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। তবে বেশির ভাগ অংশের পলেস্তারা ও চুনকাম করা হয়নি। ভবনের বিভিন্ন ব্যবহার সামগ্রী (ফিটিংস) লাগানো বাকি। একদল শ্রমিক ভবনের ভেতরে পলেস্তারা করছেন। কয়েকজন শ্রমিক নিচতলায় দরজা-জানালার কাজ করছেন। কিছু শ্রমিক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ফজিলাতুন্নেসা হলসহ ছাত্রীদের ছয়টি ও ছাত্রদের ১১টি হল আছে। শুধু ফজিলাতুন্নেসা হলের নির্মাণকাজই নয়, বাকি আছে ছাত্রদের জন্য নির্মাণাধীন মতিহার হলের নতুন ভবনের কাজও। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪ হাজার ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী থাকলেও হলগুলোতে মাত্র ৮ হাজার ৬৫১ জনের আবাসনের ব্যবস্থা আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. সিরাজুম মুনীর বলেন, প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বাড়েনি। শুরুর দিকে কাজ ধীরগতিতে চলে। এটা আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, হলটির সব কাজ শেষের দিকে। এখন আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ফরমায়েশ দেওয়া হয়েছে। দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে হলটির সব কাজ শেষ করে প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ ও অন্যান্য কাজ শুরু করা হবে।

No comments:

Post a Comment